জামায়াত পরিচয়ে বিএনপিতে যোগদান, জামায়াত বলছে ‘সাজানো নাটক’

জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে ২০ ব্যক্তির বিএনপিতে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যোগদানকারীরা নিজেদের জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের নেতাকর্মী দাবি করলেও জেলা জামায়াত বিষয়টিকে ‘সাজানো নাটক’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার শুকতাহার মোড়ে এক দোয়া মাহফিল ও যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রধানের হাত ধরে ২০ জন ব্যক্তি বিএনপিতে যোগ দেন। মাসুদ রানা প্রধান তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। তাদের বেশিভাগই জামায়াতে ইসলামী ও শিবির করতেন বলে পরিচয় দেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মাসুদ রানা প্রধান নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করছেন এবং তারা স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন কি-না তা জানতে চাইছেন। জবাবে নবাগতরা জানান, কোনো বলপ্রয়োগ ছাড়াই স্বেচ্ছায় তারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন।
জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২০ জন বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা আগে জামায়াতের রাজনীতি করতেন।
এদিকে বুধবার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াতের ২০ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন- এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো নাটক প্রচার করা হয়েছে। উল্লেখিত ব্যক্তিদের কেউই কখনো জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামী বা এর সহযোগী কোনো সংগঠনের সদস্য, কর্মী কিংবা অনুসারী ছিলেন না। তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি, কৃষক দল, আইডিয়াল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাদেরকে জামায়াতের পরিচয় দিয়ে পুনরায় বিএনপিতে যোগদান করানো রাজনৈতিক প্রতারণা, মনগড়া অপপ্রচার ও জনমত বিভ্রান্ত করার একটি নোংরা প্রচেষ্টা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের বানোয়াট, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিএনপির কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ তৈরির অপকৌশল।
জামালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি শুধু মিথ্যাচার নয়, এটি পুরোপুরি সাজানো নাটক। নিজেদের দলীয় মানুষকে জামায়াতের কর্মী সাজিয়ে পুনরায় যোগদান দেখানো রাজনৈতিক অনৈতিকতার চরম উদাহরণ।
জানতে চাইলে জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জামায়াত তো তাদের কথা বলবে। জামায়াত যে নাটক করতেছে না এর ব্যাখা কে দেবে? তারা (বিএনপিতে যোগদান করা ২০ জন) শিবিরের সাথী ছিল, দায়িত্বে ছিল জনসম্মুখে বলেছে। তারা স্বেচ্ছায় এসে বিএনপিতে যোগদান করেছে। তার ছবি ও ফুটেজ আছে।
চম্পক কুমার/আরএআর