নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাহাজাহান সরকার নামে এক অভিভাবক বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারী বিধি অনুযায়ী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০২ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দাপট দেখিয়ে ৬০০ টাকা করে আদায় করছেন। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি বাবদ মফস্বল এলাকায় সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি জনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া, ষষ্ঠ থেকে সপ্তম, সপ্তম থেকে ৮ম এবং নবম থেকে দশম শ্রেণিতে সেশন ফি ও ভর্তির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। যা স্পষ্টভাবে সরকারি নীতিমালার লঙ্ঘন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছেন। সেশন ফি বাবদ আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাত করছেন। বিদ্যালয়ের ব্যাংক ভবনের কাজ সম্পন্ন না করেই টাকা আত্মসাত করেন। যার বিপরীতে প্রদত্ত চেক ডিজঅনার হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় প্রধান শিক্ষক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রশ্রয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রাইভেট বাণিজ্য, অর্থের বিনিময়ে বিশেষ কোচিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০টি দোকানঘরের ভাড়া বাবদ আদায়কৃত অর্থ কোন খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে তার কোনো স্বচ্ছ হিসাব বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান নয়। এমনকি দোকান বরাদ্দের নামেও অর্থ গ্রহণ করে বরাদ্দ না দেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী শাহাজাহান সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিষয়ে এর আগেও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবুও তিনি কোনো অভিযোগ বা প্রশাসনিক সতর্কতাকে তোয়াক্কা না করে পূর্বের মতো অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার অতিরিক্ত টাকা গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে সরকারী ফি-এর পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু টাকা গ্রহণ করা হয়। যা বিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়ে থাকে। তিনি তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি কুচক্রি মহল অপপ্রচার চালিয়ে আমার ও বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামী সোমবার কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে সবকিছু শুনে ওই প্রধান শিক্ষকের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এএমকে
