আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পক্ষ নিলে নির্বাচন ভালো হবে না : নুরুল হক নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি, সাবেক ডাকসু ভিপি ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অপেক্ষা করছে। ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়। আমরাও সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কোনো পক্ষ নেয়, তাহলে ভালো নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে নুরুল হক নুর বলেন, এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তি আমার আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ব্যবহার করছে বলে আমরা মনে করি। আমাদের নেতাকর্মীরা জনসংযোগ করতে গেলে ট্রলার থেকে নামার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ভাঙচুর করা হয়। বিষয়টি আমি সঙ্গে সঙ্গে দশমিনা থানার ওসি ও পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকে মুঠোফোনে জানাই। তারা পুলিশ পাঠানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রাত ১১টার দিকে। এর মধ্যেই তারা নিজেরাই নিজেদের অফিস ভাঙচুর করে এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। আপনারা সেই ভিডিও দেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হোরায়রার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড শুনিয়ে দাবি করা হয় নুরকে সমর্থন দেওয়ায় হোরায়রাকে হুমকি দিয়েছেন মামুন।
তিনি বলেন, এখানে যেসব আলামত দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তারা যদি মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ভূমিকা না নেয়, তাহলে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার প্রসঙ্গে নুর বলেন, দুঃখজনক বিষয় হলো, তাদের নিজেদের তৈরি করা ভিডিও আমাদের কিছু সংবাদকর্মী ভাই, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ পরিচালনা করেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার করেছেন।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন ১২ তারিখ। নির্বাচনের আগেই যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যেখানে আমরা জোটের প্রার্থী হিসেবে বড় দল বিএনপির সঙ্গে অ্যালায়েন্স করেছি, সেখানে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় এবং প্রশাসন যদি সঠিক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, আমার এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিভিন্ন বক্তব্যে বলেছেন—এই আসনে ভিপি নুর এমপি হলে ২০ বছরেও তার অস্তিত্ব থাকবে না। এসব বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তিনি আমাদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন নুরুল হক নূরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। তবে জোট সমঝোতার কারণে নুরুল হক নুর প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনি লড়াইয়ে অটল থাকেন হাসান মামুন। নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ হাসান মামুনের সমর্থক বলে জানা গেছে। গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করায় এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুন ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মু. আবু বক্কর ছিদ্দিকী।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এএমকে