জন্মদিনে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের কথা স্মরণ করলেন মির্জা ফখরুল

জন্মদিন উপলক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের রাজনৈতিক জীবন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেছেন। বার্তাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জন্মদিনে পাওয়া শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার জন্য দেশজুড়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেন, প্রায় ছয় দশক আগে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে তার রাজনীতিতে পথচলা শুরু। স্বাধীনতার পর মানুষের জন্য কাজ করেছেন, ছাত্র পড়িয়েছেন ও সরকারি চাকরি করেছেন। পরে ১৯৮৮ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন।
বিএনপি সরকারের সময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি তার পোস্টে লিখেন, সে সময় কথার উন্নয়ন নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে কৃষি, শিক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ খাতে পরিকল্পিত অগ্রগতি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো বিদ্যমান।
তিনি ২০০৫ সালের মার্চ মাসে উদ্বোধন করা বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ভূগর্ভস্থ সেচ প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩৩৭টি টিউবওয়েল আধুনিক ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। এর ফলে পানির অপচয় কমে এবং ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৫০ একর নতুন জমি কৃষির আওতায় আসে। তার ভাষায়, এই প্রকল্প ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দেয়।
কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাসের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা বর্তমানে বহু তরুণের কর্মসংস্থানে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া ১৯৯১–১৯৯৬ এবং ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়ে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণ, বিদ্যুতায়নের বিস্তার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের যোগাযোগ ও জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে বলেও তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন। একই সময়ে জেলার সব বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষক সমাজের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় বলে জানান তিনি।
জাতীয় পর্যায়ে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, ইএসডিও (ESDO)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ সম্প্রসারণ ও রপ্তানিমুখী কৃষিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি কাজ করেছেন। কৃষক সমবায় ও আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষমতায়নের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমানে তার বয়স ৭৮ বছর এবং গত ১৭ বছর তিনি গণতন্ত্রের আন্দোলনে কাটিয়েছেন। এ সময়ে তাকে ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করেননি।
বার্তার শেষাংশে তিনি পরিবারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, তার স্ত্রী চাকরি করে সংসার সামলেছেন এবং মেয়েদের বড় করেছেন। তার মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একজন কন্যা বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
তরুণ প্রজন্মকে নিজের সন্তানের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের সব সন্তান যেন ‘দুধে-ভাতে’ থাকে-এটাই তার রাজনীতির দর্শন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
রেদওয়ান মিলন/আরএআর