একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চেয়ে জামায়াত ভোট চায় কীভাবে

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এখনো একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি, তারা ভোট চায় কীভাবে?
তিনি বলেন, অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। ১৬ বছর আপনাদের সামনে আসতে পারি নাই। তখন যে সরকারটা ছিল, সেটি ছিল জুলুমবাজ সরকার। ১১৭টা মামলা আমার বিরুদ্ধে। আমি নাকি ময়লার গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছি-সব মিথ্যা মামলা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে এক পথসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, এখন আমাদের সামনে একটি নতুন সুযোগ এসেছে। আমরা প্রতিহিংসা চাই না, আমরা হিংসা চাই না। আমি কোনো প্রতিশোধ নিতে চাই না-এটাই হচ্ছে বিএনপি, এটাই তারেক রহমান। এই ভোটে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে না পারি, তাহলে আবার আমরা ভুল করব। তাই এবার একটু সুযোগ দিলে বিএনপি আবার সরকার গঠন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।
তিনি আরও বলেন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প আমি এই এলাকায় নিয়ে এসেছিলাম। ভুট্টা চাষ শুরু করেছিলাম, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এবার নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে এয়ারপোর্ট ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করব। আমাদের মায়েদেরকে তারেক রহমান ট্রেনিং দেবেন যেন ঘরে বসেই তারা আয় করতে পারেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আপনাদের পরিচিত মানুষ। ১৯৮৬ সাল থেকে আপনারা আমাকে চেনেন। তখন আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আজ পর্যন্ত কেউ আঙুল তুলে বলতে পারবে না যে, আমি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করেছি। আমি রাজনীতি করেছি বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে। ঢাকায় যে গাড়ি ব্যবহার করি, সেটি ২০ বছর আগের। আজ যে গাড়িতে এসেছি, সেটিও আমার নয়-একজন সমর্থকের।
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা অনেক বছর ভোট দিতে পারেননি। এবার সুযোগ এসেছে। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিলে আমি সংসদে গিয়ে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আমি কাজ করা মানুষ। আমরা ভিক্ষা নিয়ে বাঁচতে চাই না, আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের মা-বোন ও যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষিত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
রেদওয়ান মিলন/আরএআর