প্রতীক না পেয়ে নিজের হাতকে শাপলা কলি বানালেন জামায়াত আমির

নোয়াখালীর জনসভায় জেলার ছয়টি আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় চারজন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিলেও প্রতীক না থাকায় এনসিপির দুই প্রার্থীকে নিজের হাতকে শাপলা কলির আকৃতি বানিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় এ ঘটনা ঘটে।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি জেলার ছয়টি আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় নোয়াখালী-১ আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ, নোয়াখালী-৩ আসনে মাওলানা বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী-৪ আসনে ইসহাক খন্দকার এবং নোয়াখালী-৫ আসনের অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
তবে নোয়াখালী-২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের জন্য কোনো প্রতীক মঞ্চে উপস্থিত ছিল না। এ সময় প্রতীক খুঁজে না পেয়ে ডা. শফিকুর রহমান নিজের হাতকে শাপলা কলির মতো করে উঁচু করে ধরে ওই দুই প্রার্থীকে হাত ধরতে বলেন এবং বলেন, আমার হাত ধরো, এটাই শাপলা কলি।
এরপর দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মা-বোনদের কাছে এ দুই প্রতীকের কথা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ১১ দলের যারা প্রার্থী আছেন, তাদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকও রয়েছে। যাদের যে প্রতীক দেওয়া হয়েছে, সেটিই ১১ দলের প্রতীক। ১১ দলের কর্মীদের কোনো চাওয়া-পাওয়া বা মান-অভিমান থাকলে আজ আমি দুই হাত তুলে তা নিয়ে যেতে চাই। মিলেমিশে লড়াই করে আধিপত্যবাদ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য এবং মা-বোনদের গায়ে হাত তোলার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভোটগুলো তুলে আনতে হবে।
এর আগে সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভা শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, ১১ দলীয় জোটের সঙ্গী দল গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ খান প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, তথ্য সম্পাদক মুহাম্মাদ সায়েদ সুমন, নোয়াখালী শহর সভাপতি মো. আরমান হোসেনসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হাসিব আল আমিন/আরএআর