সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে পুলিশ বক্সে যুবদল কর্মী রিয়াদকে হত্যা করা হয়

ময়মনসিংহ নগরীতে পুলিশ বক্সের ভেতরে যুবদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্বে রেদুয়ান জাহান রিয়াদ (২৮) নামে যুবদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব-১৪।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪'র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। নিহত রেদুয়ান জাহান রিয়াদ নগরীর কালীবাড়ি এলাকার মো. সাইদুল হক খানের ছেলে।
এর আগে এদিন জেলার ভালুকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম এবং হালুয়াঘাট থেকে লিংকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. জাহাঙ্গীর আলম (২২) জেলার ফুলপুর ও লিংকন(২২) সদর উপজেরার বাসিন্দা।

র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা যুবদল কর্মী রেদুয়ান জাহান রিয়াদের পূর্বপরিচিত ও এলাকায় সিনিয়র ও জুনিয়র হিসেবে পরিচিত। রিয়াদ সিনিয়র হলেও জাহাঙ্গীর আলম, লিংকন ও অন্যান্য আসামিদের সাথে চলাফেরা করতেন। তাদের মাঝে পূর্ব থেকেই সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগে রিয়াদ গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীরের কাছে টাকা চায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এই ঘটনার জেরে গত ২৬ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরীর পাটগুদাম বীজ মোড়ে রিয়াদের সাথে জাহাঙ্গীর, লিংকনসহ অন্য আসামিদের সাখে কথা কাটা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তবে, রিয়াদ একা থাকায় প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পুলিশ বক্সে ঢুকে পড়ে। তবে, জাহাঙ্গীর, লিংকন ও তার সঙ্গীরা পুলিশ বক্সে ঢুকে রিয়াদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রিয়াদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানো চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রিয়াদের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিহত রিয়াদের বাবা সাইদুল হক খাঁন বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর র্যাব অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর ও লিংকনকে গ্রেপ্তার করে।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর ও লিংকনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমান উল্লাহ আকন্দ/এমএএস