জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন এবি পার্টির জাহিদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম ওরফে সবুজকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী এস এ জাহিদ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ক্ষেতলাল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। ১১ দলীয় জোটের শরিক দল হিসেবে এস এ জাহিদ এখন থেকে জোট মনোনীত প্রার্থী রাশেদুল আলমের পক্ষে কাজ করবেন। তিনি ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জয়পুরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার ভোট কেউ চুরি করার চেষ্টা করলে আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিয়ে তা ঠেকানো হবে।
ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, যারা নির্বাচনের আগেই খুন-খারাপিতে জড়িয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে খুনখারাপি আরও বাড়বে। আপনারা কখনও তাদের নির্বাচিত করবেন না। তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা মানবিক ও সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই।
জয়পুরহাট-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারাও বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার দুটি আসনের কোনোটিই জোটভুক্ত শরিকদের ছাড় দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। এবি পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করলে শুরুতে বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তারা প্রার্থিতা ফিরে পান। জয়পুরহাট-১ আসনে সুলতান মো. শামছুজ্জামান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও জয়পুরহাট-২ আসনে এস এ জাহিদ ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
গত ২৫ জানুয়ারি কালাইয়ের মোসলেমগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াত কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক জামায়াত কর্মীর কাছ থেকে মুচলেকা নেয়। ওই ঘটনার পর জাহিদ ফেসবুক লাইভে এসে জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য করলে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি তাকে শোকজ করে। জোটে থেকেও জামায়াত-এবি পার্টি মুখোমুখি থাকায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। অবশেষে শনিবারের জনসভায় আনুষ্ঠানিক সমর্থনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অস্বস্তির অবসান ঘটল।
চম্পক কুমার/এমএএস