সিরাজগঞ্জে জামায়াতের নির্বাচনী অফিস ও ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ও সদর উপজেলায় টানা দুই রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুটি পৃথক নির্বাচনী ক্যাম্প ও অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জামায়াত নেতারা নির্বাচন পরিস্থিতি নষ্টের অভিযোগ তুললেও বিএনপি নেতাকর্মীরা আগুন দেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ইউনিয়নের জামতৈল গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ক্যাম্পে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইউসুফ আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা স্পেসিফিকভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারিনি। তবে বিএনপির লোকজন আগুন দিয়েছে, এটা শতভাগ নিশ্চিত।
অভিযোগ অস্বীকার করে কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাতো রাব্বি উথান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই ধরনের কাজ আমাদের লোকজন করে না। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
পরদিন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের বহুতি বাজারে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জামায়াত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চক্রান্ত। এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আকন্দ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কামারখন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্যাম্পের ব্যানার, প্যান্ডেল ও টেবিল পুড়ে যাওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে আমাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে একটি রিপোর্ট হস্তান্তর করা হয়েছে।
মো. নাজমুল হাসান/এএমকে