নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ও চিনি দিয়ে গুড় উৎপাদন

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ হাইড্রোজ ও চিনি দিয়ে গুড় উৎপাদনের দায়ে ও পঁচা গুড় রাখার অপরাধে মো. কামরুল ইসলাম প্রামাণিক নামে এক মালিককে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, রাজবাড়ীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান মামলার রায়ে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও নিম্নমানের গুড় উৎপাদনের অপরাধে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম প্রামাণিককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেন। সাজাপ্রাপ্ত মো. কামরুল ইসলাম প্রামাণিক পলাতক রয়েছে।
এর আগে, গত ২০২৫ সালর ২৯ নভেম্বর পাংশা উপজেলার কাচারিপাড়ায় মো. কামরুল ইসলাম প্রামাণিকের মালিকানাধীন কামুর দোজালি গুড় কারখানায় রাজবাড়ীর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও রাজবাড়ী ১ম আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য আইনে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে কামুর দোজালি কারখানাতে চিনি, পুরাতন পচাঁ গুড়, নিষিদ্ধ হাইড্রোজ মিশিয়ে গুড় উৎপাদন করতে পাওয়া যায়, কারখানার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর পাওয়া যায়, কাঁচামালের গুদামে ফিটকিরি, ইউরিয়া ও সালফার-ম্যাগনেসিয়াম সারের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ইউরিয়া ও সালফার-ম্যাগনেসিয়াম সারের উপস্থিতির কারণ হিসেবে কারখানায় কর্মরত একজন জানান, সেগুলো তার ফসলি জমির জন্য গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অভিযানকালে ১০০ মনের অধিক পচা গুড় কারখানায় এবং ৩৪ বস্তা চিনি, আনুমানিক ২০ কেজি হাইড্রোজ, আনুমানিক ২০ কেজি ফিটকিরি গুদামে পাওয়া যায়।
এসব অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ২৩, ২৫ ধারায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, রাজবাড়ীতে নিয়মিত মামলা রজু করা হয়।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে