একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা হলে যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ১১ দলীয় জোট প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সব দিকে খুব স্পষ্টভাবে এবং দলগুলোর মধ্যে কমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। যদি একটা বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা হয়, এমন একটা সেটেলমেন্টের মধ্য দিয়ে যেটা আগে থেকেই বোঝা যাবে যে, অমুক প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে বা অমুক দল নির্বাচিত হচ্ছে। এ ধরনের কোনো নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা হয়, তাহলে ১১ দলীয় জোট যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি যে, অনেক জায়গায় সংঘর্ষ হচ্ছে। একটি জায়গায় জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছে। যখন এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে, তখন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে অবজারভ (পর্যবেক্ষণ) করছি।
নির্বাচনে কোনো বাধার মুখে পড়ছেন কিনা__সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার যে সক্ষমতা, সেটা নিয়ে আমরা এর আগেও প্রশ্ন তুলেছি। তাদের অনেক ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের কথাও আমরা বলেছি। এবং নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তত আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের কন্ট্রোলের জায়গাটা একটা নির্বাচন আয়োজনের জন্য যতটুকু হওয়া উচিত, একটা আদর্শ অবস্থায়, তেমনটা নেই।
গণভোটে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে- এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এনসিপি’র মুখপাত্র বলেন, তাতে কিছু আসে যায় না। আপনারা জানেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগ এবং তাদের যারা দোসর ছিলেন, তারা রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক। এই গণভোটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সকল গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলেছে এবং সরকারসহ বিভিন্ন যারা সংশ্লিষ্ট আছেন সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের ক্যাম্পেইন করছে।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যত সার্ভে এসেছে আমরা দেখেছি যে, ‘হ্যাঁ’ ভোটই অনেক দূর এগিয়ে আছে। এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যেই স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের অংশগ্রহণ, এর মধ্য দিয়ে একটা বিপুল ম্যান্ডেট, যেই ম্যান্ডেট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই ছিল এবং এই সংস্কারের যে প্রক্রিয়া সেটা আরও পাকাপোক্ত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
এনপিপি, জামায়াত এবং সরকার একই অবস্থায় আছে__জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, দিল্লির কোনো পার্টির কথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আর আমরা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি না। আমরা দেখেছি তারা এর আগে দিল্লিতে গিয়ে মিটিং করে এসে বলত যে, কী কথা হয়েছে সেটা বলা যাবে না। যারা দিল্লির সঙ্গে আঁতাত করে, স্পষ্ট আঁতাত করে রাজনীতি করে, তাদের বক্তব্যকে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাসঙ্গিক অথবা ধর্তব্য বলে মনে করি না।
এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সংস্কার, সুশাসন, সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার লক্ষ্যে নির্বাচনী পদযাত্রার অংশ হিসেবে রংপুরের
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএএস