অপারেশনে কোমরে বেল্ট বাধা, তবু তারেক রহমানকে দেখতে আগের রাতে মাঠে শাহেদা

২২ বছর পর খুলনার মাটিতে পা রাখবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সবশেষ ২০০৪ সালে খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান।
প্রায় দুই যুগ পর সোমবার বেলা ১১টায় খুলনার খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। দলীয় প্রধানের আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সভার একদিন আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই সভাস্থলে অবস্থান নিয়েছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখতে আগের রাতেই পাইকগাছা উপজেলা থেকে ছুটে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ শাহেদা বেগম। উপজেলার কাশেমপুর গ্রামে তার বাড়ি। মাস দুই হলো তার অ্যাপেন্টিসাইড অপারেশন হয়েছে। কোমড়ে এখনো বেল্ট বাধা। সেই অবস্থায় খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে জনসভা মঞ্চের সামনের কাতারে চেয়ার পেতে বসে অপেক্ষা করছেন প্রিয় নেতাকে এক পলক দেখার জন্য। রাত দেড়টা, শিশিরভেজা মাঠ। মাথা ভিজছে, তবুও অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন মঞ্চের দিকে।

প্রশ্ন করতেই শাহেদা বেগম সরল মনে ঝটপট উত্তর দিলেন, দলের ভালোবাসার টানে, তারেক ভাইকে কাছ থেকে দেখতে আসছি। তারেক রহমানকে আমি আগে কখনো দেখিনি। তাই কোলের (সামনে) কাছে আইসে বসিছি তারে দেখব, তার বক্তব্য শুনব বলে। তারে ভালোবাসি বলেই আইছি। সে অনেকদিন বাইরে ছিল, দেশের থেকে চলে গেছিল, মারধর করিছিল। তার মাঝার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দিছিল। বিদেশে চিকিৎসায় ছিল। দেশে আসলি তারে মাইরে ফেলে দেবে, দেশে আসতে দেবে না কোনো দিন। আল্লাহ তারে ফিরিয়ে নিয়ে আইছে। আমি দেখব বলে অনেক দূর থেকে চলে আইছি।
শাহেদা বেগম জানান, বোনের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে বাসে করে চুকনগর নেমেছেন, সেখান থেকে আরেক বাসে চড়ে জিরোপয়েন্টে আসেন। পরে ইজিবাইকে শিববাড়ি হয়ে খালিশপুর জনসভা মাঠে এসে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় পৌঁছান তিনি।
দীর্ঘ সময় মাঠে বসে থাকায় ক্ষুধা লাগলে কি করবেন— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওতে আমার সমস্যা হবে না। দলকে ভালোবাসি তাই আইছি।
মোহাম্মদ মিলন/এমজে