হত্যা মামলার ৪০ আসামির আগাম জামিন, বিচার চাইলেন জামায়াত নেতার স্ত্রী

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলার ৪০ আসামিকে আগাম জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার। হাইকোর্টের এই আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে হত্যাকারীদের জামিন বাতিল ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী মারজিয়া।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মারজিয়া বলেন, আমি আজ হাজির হয়েছি একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন অসহায় বিধবা হিসেবে এবং দুইজন এতিম সন্তানের মা হিসেবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা আমার স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করেছে। স্বামী হত্যার শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই আমি জানতে পারি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে।
রক্তের দাগ শুকানোর আগেই খুনিরা জামিন পায়। ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ার পরও কার ইশারায় হত্যাকারীদের জামিন দেওয়া হলো?—প্রশ্ন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মারজিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, রাষ্ট্রের আইনজীবীরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হত্যাকারীদের জামিন হয়? তাহলে কি অ্যাটর্নি অফিসে এখনো ফ্যাসিস্টদের উত্তরসূরীরা রয়ে গেছে?
অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি কোনো দলের নন, আপনি রাষ্ট্রের আইনজীবী। অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে হত্যাকারীদের জামিন বন্ধ করুন। না হলে আমরা বুঝে নেব, আপনিও ফ্যাসিস্টদের দোসর।
তিনি আরও বলেন, শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। ন্যায়বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চলবে।
রেজাউল করিমের স্ত্রী বলেন, শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ মোট ৪০ আসামিকে ছয় সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে, রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আগাম জামিনের আবেদন করা হয় বলে নিশ্চিত করেন।
রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া শুক্রবার দিবাগত রাতে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও সন্ধ্যার আগে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল তার নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হলে বিএনপির বাধার মুখে পড়েন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে গুরুতর আহত হন মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে ওই রাতেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও জামায়াত নেতাকর্মীরা দ্রুত আগাম জামিন বাতিল করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।
মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/এএমকে