দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে : গোলাম পরওয়ার

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে বিএনপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এখন হিন্দুদেরকে বলছে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এদেশ পাকিস্তান হয়ে যাবে। তারা আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের জনগণ সবাইকে ক্ষমতায় দেখেছে, এবার দাঁড়িপাল্লার শাসন দেখতে যায়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বালিকা বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি এখন কথায় কথায় আমাদেরকে রাজাকার বলা শুরু করেছে। তাই বিএনপিকে বলবো, যারা আমাদেরকে রাজাকার বলে গালি দেন, যখন গোলাম আযমের কাছে সমর্থন চাইতে গেছিলেন তখন রাজাকারের কথা মনে ছিল না। ২০০৬ সালে যখন ৪ দলীয় জোট করলেন, আমাকে আবার এই খুলনা-৫ আসনে মনোনয়নও দিলেন। চুকনগরের একটি সমাবেশে বিএনপি বলেছিল গোলাম পরওয়ার সাহেব ভালো লোক, আপনারা তাকে ভোট দেন। তখন এই সমস্ত কথা মনে ছিল না? এজন্য বলি - বিএনপির সাথে থাকলে সঙ্গী আর না থাকলে জঙ্গি।
তিনি আরও বলেন, ওইসব পুরানো রেকর্ড বাজালে মানুষ আর শুনবে না। সেদিন ডুমুরিয়ার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিলেন। আমার হাত ধরে আমাকে ভালোবেসেছেন। ডুমুরিয়ার মানুষ এখনো দাঁড়িপাল্লাকে ধরে রেখেছেন। এবার নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লার বিজয়ী হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিলপাবলা, কুলটি, পাহাড়পুর হিন্দু এলাকা সকাল থেকে ঘুরেছি। সেখানে যেয়ে শুনলাম প্রচার করা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা যদি জিতে যায় এই দেশটা পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। তা আমি বললাম, আমি গোলাম পরওয়ার ২০০৬ সাল থেকে ৫ বছর এমপি ছিলাম। তখন আমরা সরকারি টাকা নিয়ে প্রত্যেকটা মন্দির উন্নয়ন করেছি। ডুমুরিয়ায় নাট মন্দির নির্মাণ করেছি। শ্মশান করেছি, হিন্দু মা-বোনেরা সবাই যে যার ধর্ম উৎসব পালন করেছেন। এখন দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে তাদের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। যে কারণে মিথ্যা আবোল তাবোল বলছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়েও তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখতার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ বিশ্বাসের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা মহানগরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় সহকারী গবেষণা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা এমরান হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খেলাফত মসলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল কাইউম জমাদ্দার, জামায়াতের জেলা সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা ও হাফেজ আমিনুল ইসলাম, জেলা শিবির সভাপতি ইউসুফ ফকির, জেলা সেক্রেটারি মমিনুর রহমান, চুকনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি হাফেজ সাইদুল ইসলাম, ড. একরাম উদ্দিন সুমন, রাবির হাবিবুর রহমান হলের ভিপি আহমেদ আতাউল্লাহ ফারহান, ঢাবি শিবির নেতা আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান প্রমুখ।
মোহাম্মদ মিলন/আরএআর