‘আই হ্যাভ এ প্লান’ বলে দেশে খুন-হত্যা শুরু : রাশেদ প্রধান

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, লন্ডন থেকে আসা মুফতি সাহেব নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আমাদেরকে। উনি বলতেছেন “আই হ্যাভ এ প্লান”, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তারপর থেকে দেখি মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পরিবারের মা-বোনদের সম্মান দিয়ে কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিএনপি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মা-বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছে। কথা পরিষ্কার, নতুন বাংলাদেশে আমার মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গড়েয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামী আয়োজতি নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ প্রধান বলেন, এই অঞ্চলের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি-জামাত যখন একসঙ্গে ঐক্য ছিল। আমার দল জাগপাও ছিল। ফখরুল সাহেব তার বক্তব্যে অসংখ্যবার বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীর নামে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অন্যায়ভাবে বিচারের নামে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে থাকলে সঙ্গী আর পাশে না থাকলে জঙ্গি। আপনার বয়স হয়েছে ভুলভাল বলেন, আমরা সেটা বুঝতে পারি। নতুন করে বলছেন, জামাত ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নাকি বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে বলেছিলেন আবার পাকিস্তান হয়ে যাবে। একেক সময় একেক কথা বলিয়েন না। জুলাই-পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ এই নতুন বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান চায় না। আর নতুন বাংলাদেশের মানুষ লন্ডনেও পালিয়ে যেতে চায় না। নতুন বাংলাদেশকে আমরা সোনার বাংলাদেশে রূপান্তর করতে চাই।
রাশেদ প্রধান বলেন, ফখরুল সাহেব কে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই। আল্লাহর ওয়াস্তে সংলগ্ন কথাবার্তা বলুন। কার সম্পর্কে বলছেন, কীভাবে বলছেন বুঝেশুনে বলুন। আমি বলি না, দুষ্ট মানুষরা বলেন পর্যাপ্ত বয়স হওয়ার পরেও ফখরুল সাহেব নাকি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই। দুষ্ট লোকরা এও বলেন, সাহেবের পিতা নাকি ওই সময়ে বিখ্যাত রাজাকার ছিলেন। কার মুখে কি শুনি।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভাই উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। পাঁচটি বছর অন্ধকার কারাগারে কেটেছে। রিমান্ডের নামে ৫০ দিনেরও বেশি তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। সেই দেলাওয়ার ভাই এসেছেন দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে আপনাদের মাঝে। এই সেই এলাকার যারা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির পর হিন্দু-মুসলমান সবাই রাজপথে নেমে এসেছিলেন। এখানে সেদিন ছয়জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
রাশেদ প্রধান বলেন, আগের মতো কেন্দ্র দখল করতে আসবেন, ওই বাংলাদেশ আর নাই। ছাত্র ও যুবক ভাইদের বলতে চাই, যদি আমার কোনো বোনের গায়ে হাত পড়ে, তাহলে সেই হাত ভেঙে চুরমার করে দেবেন। ১২ তারিখ ভোটের অধিকার কেউ যদি ছিনিয়ে নিতে আসে। তাহলে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো বাঁশ নিয়ে পাহারা দেবেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশে দেলাওয়ার ভাইয়ের মতো মানুষ দায়িত্বে আসবে। তার কাছে আপনারা গিয়ে দাবি আদায় করতে পারবেন। বুলেটপ্রুফ গাড়ির ভেতরে যারা ভিআইপি সেজে থাকেন, তাদেরকে আমরা চাই না।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে