একই সময়ে ফেরি ও সি-ট্রাক চলাচল, যাত্রী সংকটে জন্য বন্ধ সি-ট্রাক

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি ও সি-ট্রাকের একই সময়ের শিডিউল জটিলতায় যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সি-ট্রাক এস টি শৈবাল।
জানা গেছে, চেয়ারম্যানঘাট–হাতিয়া নৌরুটে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল সি-ট্রাক এস টি শৈবাল। দুর্যোগপূর্ণ সময়েও হাতিয়াবাসীর জন্য এটি ছিল নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম। তবে সম্প্রতি ফেরি মহানন্দা ও সি-ট্রাক এস টি শৈবালের চলাচলের সময়সূচি একই হওয়ায় যাত্রী বিভক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে মারাত্মক যাত্রী সংকটে পড়ে সি-ট্রাকটি।
এই পরিস্থিতিতে সি-ট্রাক কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এস টি শৈবালের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এতে স্থানীয় যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের মতে, ফেরি ও সি-ট্রাকের জন্য পৃথক ও সমন্বিত শিডিউল নির্ধারণ করা হলে এই সংকট এড়ানো সম্ভব। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, নৌপথের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে এবং হাতিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
এদিকে জানা গেছে, একই সংকট অব্যাহত থাকলে আরেকটি সি-ট্রাক এস টি সাঙ্গু-ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেরি সার্ভিসে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা ইচ্ছেমতো ফেরি পরিচালনা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গাড়ির ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভাড়া নেওয়া হয়। এমনকি ফেরির মাস্টাররা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে ফেরি ছাড়েন, যাতে সি-ট্রাক যাত্রী না পায়। এতে বর্তমানে চলমান তিনটি সি-ট্রাকই সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সি-ট্রাক এস টি শৈবালের মাস্টার আফজাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে সি-ট্রাকের সঙ্গে একই সময়ে চলাচল করা হচ্ছে। এতে যাত্রী সংকট তৈরি হচ্ছে। ফেরিতে গাড়ি লোড হয়ে গেলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়, যাতে যাত্রী সি-ট্রাকে না যায়।
এ বিষয়ে ফেরি মহানন্দার মাস্টার মোজাম্মেল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের এখনো নির্দিষ্ট কোনো শিডিউল দেওয়া হয়নি। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে ফেরি পরিচালনা করছি। যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিডিউল নির্ধারণ করা হলে আমরা সেটি মেনে চলবো।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর ঢাকা পোস্টকে বলেন, সি-ট্রাক বন্ধ হলে আমাদের যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে যাবে। হাতিয়ার মানুষের জন্য এটা বড় ক্ষতি। হাতিয়ার স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ফেরি ও সি-ট্রাকের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা জরুরি। এতে নৌযোগাযোগে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
হাসিব আল আমিন/এমএএস