মাগুরায় প্রথমবার আপেল কুল চাষে সাফল্য, ৩ লাখ টাকা বিক্রির আশা

মাগুরায় প্রথমবারের মতো আপেল কুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের কৃষক পিকুল লস্কর। তিন বিঘা জমিতে আপেল কুলের পাশাপাশি বল সুন্দরী ও বাউকুল চাষ করে তিনি ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। প্রতিটি গাছের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত থোকায় থোকায় কুল ধরেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার কুল বিক্রির আশা করছেন এই চাষি। স্থানীয় আড়তদার ও বিভিন্ন জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি তার বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন।
কুলচাষি পিকুল লস্কর বলেন, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে আমি রাউতারা গ্রামের উদ্যোক্তা নাসিরের কাছ থেকে কিছু আপেল কুলের চারা সংগ্রহ করি। পরে নিজের জমিতে চারা রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করি। সময়মতো সার ও পানি দেওয়ায় চারাগাছগুলো খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। রোপণের প্রায় তিন মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফল ধরতে শুরু করে। প্রথম দিকে আড়তে আপেল কুল কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করেছি। পরে ফলন ভালো হওয়ায় আরও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছি। আমার বাগানের প্রতিটি গাছেই অস্বাভাবিক পরিমাণ কুল ধরেছে।

কুল বড় হওয়ার সময় প্রথমে সবুজ রঙের থাকে, পরে ধীরে ধীরে লালচে হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বল সুন্দরী ও বাউকুল আকারে অনেক বড় এবং দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। বাউকুল সবুজ ও বড় আকৃতির, আর বল সুন্দরী লাল-সবুজ রঙের ও স্বাদে অনেক মিষ্টি। এসব কুলের চাহিদা বাজারে তুলনামূলক বেশি।
আমি আড়তের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানের পাইকারি ব্যাপারীরা আমার বাগানে এসে কুল সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আমি আশাবাদী এ চাষে আমি সফল হব। আগামীতে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে এ চাষ বৃদ্ধির আশা আছে আমার।
সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের চাষি শওকত আলী বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে আপেল কুল, বাউকুল ও বল সুন্দরী চাষ করেছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এই চাষে পরিশ্রম অনেক কম, অথচ লাভ বেশি। শুরুতে চারাগাছগুলো একটু বড় হয়ে উঠলেই বাড়তি কোনো কষ্ট থাকে না। নিয়মিত সামান্য যত্ন নিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
পরবর্তী বছরগুলোতে গাছের তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। শুধু গাছের উপরের অংশ নিয়মিত ছেঁটে দিয়ে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রতি বছরই ভালো ও স্থায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, আপেল কুল চাষের জন্য মাগুরার আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী। আমরা কৃষকদের এ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি এবং নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। চলতি বছর জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে আপেল কুলের চাষ হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপেল কুল চাষ কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক বিকল্প হতে পারে।
তাছিন জামান/এসএইচএ