তারেক রহমানের বরিশাল সফর : গতি ফিরেছে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল সফরের পর দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশে তার সফর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সাধারণ ভোটারদের মতে, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভুলে এখন বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মী ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সফরের পরপরই বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। একাধিক আসনে আগে যে গ্রুপিং ও সমন্বয়হীনতা ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। নেতাকর্মীরা নিয়মিত বৈঠক, উঠানসভা, গণসংযোগ ও প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, তারেক রহমানের আগমন বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনেই ধানের শীষের বিজয়ের বার্তা বয়ে এনেছে। তিনি বরিশাল সদর-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী। অতীতে যেমন ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবারও মানুষ একইভাবে রায় দেবে। বর্তমান নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ শক্তিশালী কোনো দল নেই। ৪ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নির্বাচনী সমাবেশ ছিল বরিশালের ইতিহাসে অন্যতম বড় সমাবেশ, যা ভোটারদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) এইচএম তসলিম বলেন, তারেক রহমানের সফর আমাদের জন্য নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। এখন আর কে কার লোক, এই প্রশ্ন নেই। সবাই বিএনপির কর্মী হিসেবেই কাজ করছে। তিনি বলেন, বরিশালের বিভিন্ন আসনে প্রচারণায় গিয়ে দেখেছি ধানের শীষে জোয়ার এসেছে।
উঠানসভাগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে বরিশালে বিএনপির বিজয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, উন্নয়ন বৈষম্য ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েছে এবং বিএনপি এই ক্ষোভকে ইতিবাচক ভোটে রূপান্তর করতে চায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থীরা বিভিন্ন উপজেলায় সমাবেশ, পথসভা ও উঠানসভা আয়োজন করছেন। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন। তরুণ ও নতুন ভোটারদের টানতে পৃথক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনী আলোচনাকালে অধ্যাপক শাহে আলম বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনে বিএনপি এই ঐক্য ধরে রাখতে পারলে ভোটের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অতীতে দলীয় কোন্দলের কারণে বেশ কয়েকটি আসনে প্রত্যাশিত ফল আসেনি, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
বিএনপি নেতারা জানান, এই ঐক্য শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, ভবিষ্যতেও সংগঠনকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্য রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে ধানের শীষের পক্ষে শক্তিশালী গণজোয়ার সৃষ্টি হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বেলস পার্কে বিভাগীয় সমাবেশে দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি খাল খনন, নারীদের কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র পুনর্গঠন, উন্নয়ন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং ২১টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
এ সময় তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের দিকে নজর রাখুন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা আপনাদের দেখাশোনা করবে।
বিএনপি নেতাদের মতে, এই বক্তব্য দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
এএমকে