আল্লাহ যদি আমাদের দেশের দায়িত্ব দেন, কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস করবে না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ যদি আমাদেরকে এ দেশের দায়িত্ব দেন, এক ইঞ্চি মাটির উপরে কেউ আর চাঁদাবাজির হাত বাড়ানোর সাহস করবে না। কোনো অফিস-আদালতে ঘুষ নেওয়ার ও খাওয়ার সাহস হবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ গত ৫৪ বছরে জুলুমের শিকার হয়েছে। আলেম, ওলামা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, শ্রমিক, কৃষক, কামার-কুমার, তাঁতি, জেলে কেউই জুলুমের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
তিনি বলেন, আমরা শাহজালালের উত্তরসূরী। তিনি এসেছিলেন অন্যায়, জুলমতন্ত্র, তৎকালীন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার হাতে নিয়ে। আলহামদুল্লাহ, তিনি মজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, জালিমের বিপক্ষে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সব চাইতে মজলুম দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু আল্লাহ তায়ালার আইনের প্রতিষ্ঠার কথা বলার অপরাধে আমাদের ১১ জন নেতাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। ১ হাজার সহযোদ্ধাকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। ৫ হাজার সহকর্মীকে পঙ্গু করা হয়েছে। ৫০ লাখ ভাই-বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত বারবার জেলে পাঠানো হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন জাতির জীবনে স্বস্তি দিলেন, আমরা কোনো মিছিল করিনি সেজদায় পড়ে শুকরিয়া আদায় করেছি। দল হিসেবে কোনো প্রতিশোধ নেইনি।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেস্তা ছিল না। পাচারকৃত টাকা জনগণের হক। ফিরিয়ে না দিলে আমরা দেশের সেবক হতে পারলে ওদের শান্তিতে থাকতে দেব না। মুখের ভেতর হাত ঢুকিয়ে এগুলো বাহির করা হবে।
সিলেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী নির্ভর হয়েও গ্যাস, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, নদীভাঙন ও ড্রেনেজ সংকটে সিলেট ভুগছে। বৃষ্টি দিলে শহর ডুবে যায়। মদ, গাঁজা, সন্ত্রাস ও অস্ত্র সিলেটকে অস্থির করে রেখেছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ করা হবে, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনা হবে এবং নদীবান্ধব দেশ গড়া হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। এখানেই বড় হয়েছি, পড়াশোনা করেছি, কর্মজীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করেছি। জামায়াতের আমির হিসেবে নয় আপনাদের স্বজন হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের এবার একটু সুযোগ দেন। আমরা মালিক হব না, আমরা আপনাদের পাহাড়া দেব।
তিনি বলেন, সিলেট বাংলাদেশের সবচেয়ে খনিজ সম্পদ ও প্রবাসী নির্ভর এলাকা হলেও অবহেলার শিকার। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, বর্ষায় ভাঙন, শুষ্ক মৌসুমে পানি নেই।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে, জলাশয় দখল বন্ধ হবে, সুরমা-কুশিয়ারা বইয়ের পাতায় নয় বাস্তবে ফিরবে। পরে তিনি জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।
মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও শাহজাহান আলী এবং জয়নাল আবেদীনের যৌথ সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
মাসুদ আহমদ রনি/এএমকে