পুকুরে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল পিস্তল-গুলিসহ দুই শতাধিক দেশীয় অস্ত্র

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর বাজারের পাশে একটি পুকুরে ডুবিয়ে রাখা স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় চারটি পিস্তল, ১৮ রাউন্ড গুলিসহ দুই শতাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এসব অস্ত্র নির্বাচনের দিন ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে জানান ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অস্থায়ী ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, ওই পুকুরে অবৈধ অস্ত্র আছে। পরে ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সহযোগিতায় আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে আমরা ওই পুকুরের পাড়ে যাই। পুকুরটিতে পাঁচ ফুট পরিমাণ পানির গভীরতা ছিল। পরে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চালিয়ে দেড়–দুই ফুট পরিমাণ পানি অপসারণ করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় স্কচটেপে মোড়ানো চার বান্ডিল অস্ত্র পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, এই বান্ডিলগুলোর স্কচটেপ খুলে আমরা ৪টি পিস্তল ও ১৮ রাউন্ড গুলি, ২টি কাটা পাইপগান উদ্ধার করি। এছাড়াও চাইনিজ কুড়াল, ছোট-বড় ছেনদা, বল্লম, ছোট-বড় চাকু, বর্ষার মাথা, টেটাসহ দুই শতাধিক দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে পাঁচটি খালি কাঁচের মদের বোতলও ছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আরও বলেন, অস্ত্রগুলো নির্বাচনের দিন ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের। তিনি বলেন, অস্ত্রগুলো কোন থানার লুট হওয়া, নাকি চোরাই অবৈধ পথে অন্য কোথাও থেকে আসা অস্ত্র—এগুলো আমরা এখনও নিশ্চিত নই। আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিগুলো সরকারি অস্ত্রাগারের লটের সাথে আমরা মিলিয়ে দেখব। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্রগুলোও কোন থানার জব্দ করা অস্ত্র কিনা, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।
তিনি বলেন, কানাইপুর এলাকায় এ জাতীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোন কোন সন্ত্রাসী চালাতে পারে, তার নামের তালিকা ও ধারণা আমাদের রয়েছে। অতিদ্রুত এই অস্ত্র কার বা যে সন্ত্রাসী ওখানে এসব রেখেছে, তাদেরকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএইচএ