রমেশ চন্দ্র সেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে গেলেন মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের সহকর্মীকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার রুহিয়ার বাসায় যান মির্জা ফখরুল। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে তিনি সেখান থেকে বিদায় নেন।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবাদমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য না দিলেও এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় রমেশ চন্দ্র সেনের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।
রমেশ চন্দ্র সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে, শনিবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন কাজ শেষে নাস্তা করার পর তিনি ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কারাগারের দায়িত্বরত সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার রুহিয়া সেনপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের মাধ্যমে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরদিন তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।
রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন এবং মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে দলটির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়।
রেদওয়ান মিলন/এএমকে