স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, আহত ৬

ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের চার ইউনিয়ন) স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিস ও সমর্থকদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর করছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়লেও পুলিশের নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অফিসে থাকা ৫ নস্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ফিরোজের কর্মী ওয়াজ্জেদ হোসেন, তার ছেলে বাদশা ও আহাদ, খড়াশুনী গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শামীম ও শ্রীমন্তপুর গ্রামের আয়নালের ছেলে জনিকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়। এ সময় অফিসের টেবিল, চেয়ার ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। এরপর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একইদিন রাতে ৮ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পৌরসভার হেলাই গ্রামের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। অফিসে থাকা চেয়ারগুলো ভাঙচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় আহত করা হয় দুজনকে। এছাড়া প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন হুমকি ধমকির ঘটনা ঘটছেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে বলে আমি মনে করি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। প্রশাসনও এক রকম পক্ষ-পাতিত্ব করছে বলে মনে হচ্ছে।
জানতে চাইলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান দাবি করেন, তার নেতাকর্মী, সমর্থকেরা হামলা-ভাঙচুরের সাথে জড়িত নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনই নিজেদের অফিস-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেরাই ভেঙে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নলডাঙ্গায় অবস্থিত নিবার্চনী অফিস ভাঙচুরের পর পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল মামুন/এসএইচএ