আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মাদরাসায় ৩৭ রেহাল দিলেন প্রবাসী নারী

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা আগুনে পুড়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এক কানাডা প্রবাসী নারী। তার সহযোগিতায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৭টি কোরআন শরিফের রেহাল প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে এসব রেহাল হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা তাফসিরুল ইসলাম হাবিবী, কোষাধ্যক্ষ কামরুজ্জামান তপন, আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ফাইম রেজা প্রিন্স, ব্যবসায়ী ফয়সাল আজম এবং ঢাকা পোস্টের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি তাছিন জামানসহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাশের একটি মসজিদে অবস্থান করায় মাদরাসার ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে মানবিক সহানুভূতির সাড়া পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান সব্দালপুর ইউনিয়নের তারাউজিয়াল গ্রামের প্রয়াত মঞ্জুর মোর্শেদ আজাদের স্ত্রী কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদ।
ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত সংবাদটি পড়ে তিনি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কোরআন শরিফ ও রেহাল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি তাছিন জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে তাছিন জামান মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন— ইতোমধ্যে পাঠদানের জন্য কোরআন শরিফ ক্রয় করা হলেও সেগুলো পাঠের উপযোগী করে রাখার জন্য রেহালের প্রয়োজন। ফলে শিক্ষার্থীদের কোরআন হাতে নিয়ে পড়তে হচ্ছে, যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিষয়টি জানার পর কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদ তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার উদ্যোগ নেন। তার আর্থিক সহযোগিতায় ৩৭টি রেহাল ক্রয় করে সোমবার দুপুরে মাদরাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
রেহাল পেয়ে শিক্ষার্থীরা জানায়, আগুনে সব কিছু হারিয়ে তারা যখন চরম দুশ্চিন্তায় ছিল, তখন ঢাকা পোস্টের সংবাদ তাদের কষ্টের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। সেই সংবাদের কারণেই আজ তারা আবার স্বাভাবিকভাবে কোরআন শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষও এই সহযোগিতার জন্য ঢাকা পোস্ট এবং কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সংকট মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় আজ আমরা এই মানবিক সহায়তা পেয়েছি, যা শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়িয়েছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবন ও শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করতে এখনো নতুন পোশাক, বেডিং, রান্নার সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদ বলেন, ঢাকা পোস্টে নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার অগ্নিকাণ্ডের সংবাদটি পড়ে আমি গভীরভাবে মর্মাহত হই। সবকিছু হারালেও আল্লাহর অশেষ রহমতে কোনো প্রাণহানি হয়নি—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সংবাদে জানতে পারি, রিহালের অভাবে শিক্ষার্থীরা কোরআন পড়তে কষ্ট পাচ্ছে। একজন মানুষ ও একজন মুসলমান হিসেবে মনে করেছি, এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রকৃত প্রয়োজন জানতে পেরে ৩৭টি রেহাল সরবরাহের উদ্যোগ নিই। এতে যদি শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি ঢাকা পোস্টকে ধন্যবাদ জানাই এবং সমাজের সামর্থ্যবান সবাইকে এই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
তাছিন জামান/আরএআর