কুড়িগ্রামে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ

কুড়িগ্রামে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র অতিঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে সেনাবাহিনীর দুর্গম চরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো মহড়া অনুষ্ঠিত। প্রশাসন বলছে শান্তিুপূর্ণ ভোটগ্রহণের পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর প্রায় ৩২০কিলোমিটার নদী পথে রয়েছে সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল। এসব দুর্গম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে প্রতি নির্বাচনে ছোট-বড় সহিংসা ঘটে থাকে। এবারের নির্বাচনে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় জেলায় সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাধিক ডিভিশনের জিওসি (রংপুর এরিয়া) আয়োজনে সোমবার কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে ঘণ্টাব্যাপী মহড়া পরিচালনার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ৬৬ পদাধিক ডিভিশনের জিওসি (রংপুর এরিয়া) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
এছাড়া চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন নয়ারহাট ইউনিয়নের খেরুয়ার চরে হেলিকপ্টার মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নয়ারাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম দেখে আমরা চরবাসী খুশি। নিশ্চিতে ভোট দিয়ে এখন বাড়ি ফিরতে পারবে।
একই ইউনিয়নের আলম মিয়া বলেন, মহড়ার সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার যোগে আকাশ পথে চরাঞ্চলের দুর্গম ভোটকেন্দ্র এলাকায় পৌঁছে প্যারাসুট বেয়ে নামার মহড়া দেয়। পরে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করে চরাঞ্চলের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রদানে আশ্বাস দিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল নাঈম বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ৬৫০ জন সদস্য মাঠে থাকবে। দুর্গম চরাঞ্চলসহ যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
নদীমাতৃক এই জেলায় ৯টি উপজেলায় ৭৩টি ইউনিয়ন,৩টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত হয়েছে ৪টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে জেলার শহর থেকে বিচ্ছিন্ন ২টি উপজেলা এবং ৭টি ইউনিয়ন। এছাড়া তিস্তা,ধরলা, ব্রহ্মপুত্র,দুধকুমার, গঙ্গাধরসহ ১৬টি নদনদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন রয়েছে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র। জেলার ৪টি সংসদীয় আসনে এবার ভোটার ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন, এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ জন এবং নারী ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২০৯ জন, হিজড়া ১৪ জন। ভোটকেন্দ্র ৭০৬টি, কক্ষ ৩৮৭১টি। পুরুষ কক্ষ ১৮০৬টি, নারী কক্ষ ২০৭৩টি। এছাড়া পোস্টাল ব্যালেটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫০৯ জন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৭০৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৬টি ভোট কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে ১টি করে এবং অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৬টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ, ১৩ জন আনসার উপস্থিত থাকবে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় দুই হাজার পুলিশ, ৪৫০ বিজিবি, ৬০০ সেনাবাহিনী এবং র্যাব নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
এবিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলে, কুড়িগ্রাম একটি শান্তিপ্রিয় জেলা এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।
মমিনুল ইসলাম বাবু/আরকে