প্রচারণা শেষ, চট্টগ্রামে সুষ্ঠু নির্বাচনে প্রশাসনের ‘রণপ্রস্তুতি’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, এবারের নির্বাচনে জেলার কিছু বিশেষ ও দূরবর্তী কেন্দ্র যেমন— উড়িরচর, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালীর পাহাড়ি এলাকাগুলোকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনীর ইউনিট স্থাপন করে কাজ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি, কোনো কেন্দ্রের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ফোর্স ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ ছাড়বেন না। এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। কোন ফোর্স ও কোন ম্যাজিস্ট্রেট কোন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিত করতে একটি ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কো-অর্ডিনেশন সেল রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের সেলগুলোর কার্যক্রম জেলা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে মনিটর করা হবে।
জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলার অনেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন অ্যাপ ডেভেলপ করেছেন, যার মাধ্যমে কোন কেন্দ্রে কে কোথায় মুভ করছে— সে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জেলা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অতীতের সব গ্লানি দূর করতে চাই। এই লক্ষ্য সামনে রেখে সব ফোর্স নিয়ে আমরা একই স্ট্রিমে, একই স্পিডে কাজ করছি। সার্বিক সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট পেপার, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার— সব প্রস্তুত।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, এবার আমরা নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আনসার বাহিনী একটি সুরক্ষা অ্যাপ ডেভেলপ করেছে। পুলিশ বাহিনীর বডি-ওর্ন ক্যামেরা রয়েছে, পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও বডি-ওর্ন ক্যামেরা আছে। সুতরাং এবার কোনোভাবেই কোনো ‘ড্রামা’ করার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, মাঠে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও দায়িত্ব পালন করছেন। মোট প্রায় ১১৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মাঠে কাজ করছেন। জেলায় মোট এক হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসারের জন্য একজন আনসারসহ মোট ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পুলিশের সদস্যরাও থাকবেন।
তিনি বলেন, কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমাদের স্ট্রাইকিং ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে আমরা কঠোরভাবে মনিটরিং করছি, যাতে কেউ কাউকে প্রভাবিত করতে না পারে এবং ভোটাররা নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গুজব ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রোধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্টরাও রয়েছেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে সন্দেহজনক লিংক রিয়েল না ফেক—তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই কমিটেড, আমরা ডিটারমাইন্ড। সরকারি কর্মচারী হিসেবে জাতিকে একটি ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যে যা করণীয়, আমরা তা-ই করব।
প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচার শেষ হতে হয়। সে অনুযায়ী, আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচনী প্রচার শেষ হল।
এমআর/এমজে