সেই ভয়ঙ্কর রাতের ঘটনা ভুলে পারুল ভোট দিলেন তার পছন্দের প্রার্থীকে

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের চার সন্তানের জননী পারুল আক্তার আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার ‘অপরাধে’ তিনি এক নারকীয় রাত পার করেছিলেন।
এইবার পারুল ভোট দিয়েছেন পাঙ্খার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। পার্শ্ববর্তী পুরুষ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তার স্বামী সিরাজ উদ্দিন ও ছেলে আব্দুল কুদ্দুস।
ভোট দিতে পেরে পারুল আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, অবশেষে আমি ভোট দিয়েছি। ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এটা আমরা দোয়া করি। আমার পরিবারের সবাই এই এলাকার ধানের শীষের প্রার্থী শাহজাহান ভাইয়ের পক্ষে আছি। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।
তার স্বামী সিরাজ উদ্দিন বলেন, সকালে আমরা পরিবারের সবাই ভোট দিয়েছি। এতে আমরা আনন্দিত। আমরা চাই যে প্রতীকে ভোট দেওয়ায় আমাদের পরিবারের ওপর আজাব নেমেছিল, সেই প্রতীক যেন এবার জয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে।
নোয়াখালী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের অপরাধে পারুলকে যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল, তা দেশ-বিদেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তার এই ত্যাগ ও সাহস আজ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তার মনের আশা কবুল হোক এবং ন্যায়ভিত্তিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশে জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই প্রত্যাশায় আমরা চাই, তারেক রহমান দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব দিন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোটকেন্দ্রে পছন্দের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী পারুল আক্তারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে সন্তানদের সামনে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২–এর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে রায় এখনও কার্যকর হয়নি।
হাসিব আল আমিন/আরকে