কিছু কেন্দ্রে ধীরগতিতে চলছে ভোটগ্রহণ, অভিযোগ ভোটারদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজধানীর ঢাকা-৫ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে অনেক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।
কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি থাকলেও কার্যক্রম এগোচ্ছে বেশ ধীরগতিতে। লাইন যেন নড়ছে না– এমন অভিযোগ করে অনেক ভোটার জানিয়েছেন, কোনো কোনো বুথে কর্মকর্তারা খুব ধীরে কাজ করছেন। তবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা নিরলসভাবে ভোট গ্রহণ করে যাচ্ছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
রাজধানীর ডেমরার হাজী মোয়াজ্জেম উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট চারটি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য দুটি এবং মহিলাদের জন্য দুটি কেন্দ্র। এই ৪টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৯ হাজার ১৮৩ জন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এখানে ভোট দিয়েছেন ২ হাজার ৭১০ জন, যা মোট ভোটের প্রায় ৩০ শতাংশ। দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনো অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
সেখানে ভোট দিতে আসা ষাটোর্ধ্ব মো. আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। আমি ভোট দিয়েছি সেটাও অনেকক্ষণ লেগেছে। এখন স্ত্রীর জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, তার আরও সময় লাগছে। ভোট নেওয়া হচ্ছে খুব ধীরগতিতে।’
হাজী মোয়াজ্জেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা দ্রুত ভোট গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ভোটারদের চাপে আমাদের অফিসাররা ক্লান্ত, মাঝে মাঝে আমি নিজেও তাদের সহযোগিতা করছি।’
অন্যদিকে, উত্তর যাত্রাবাড়ীর মাদ্রাসা মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৫৫ জন। শুধু পুরুষ ভোটারদের জন্য নির্ধারিত এই কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৭০০টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ভবনের নিচে রোদের মধ্যে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং এখানেও ভোটাররা ভোট গ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবিএম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ছয়টি বুথের মাধ্যমে আমরা ভোট গ্রহণ করছি। প্রত্যেকটি বুথের অফিসাররা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছেন। কেউ বসে নেই।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড (৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০) নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসনে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন।
এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে তিন প্রার্থীর মধ্যে– মোহাম্মদ কামাল হোসেন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী): দাঁড়িপাল্লা প্রতীক; মো. নবী উল্লাহ নবী (বিএনপি): ধানের শীষ প্রতীক; হাজী মো. ইবরাহীম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ): হাতপাখা প্রতীক।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন– তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক), মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), মো. গোলাম আজম (আনারস), মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), শাহিনুর আক্তার সুমি (কাচি), মো. হুমায়ূন কবির (ছাতা) এবং মো. সাইফুল আলম (ডাব)।
এসএইচআর/বিআরইউ