পুত্রবধূর কাঁধে ভর দিয়ে ভোট দিলেন শতবর্ষী রাবিয়া বেওয়া

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, পা ফেলার শক্তিও। তবুও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছার কাছে হার মানল বার্ধক্য। নাটোরের লালপুরে পুত্রবধূর কাঁধে ভর দিয়ে শত বছর বয়সী রাবিয়া বেওয়া ভোট কেন্দ্রে এসে নিজের ভোট দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোরের লালপুরে এই দৃশ্য নজর কাড়ে ভোটার ও উপস্থিত জনতার।
লালপুর উপজেলার গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে রোদের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল ভোটারদের ভিড়। এরই মধ্যে দেখা যায়, দুই বৃদ্ধা নারীকে ধরে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছেন এক মধ্যবয়সী নারী। জানা গেল, তারা সম্পর্কে শাশুড়ি, ননদ ও ছেলের বউ।
শতবর্ষী রাবিয়া বেওয়া এবং ৮০ বছর বয়সী ননদ খাতিমন, দুজনকেই দুপাশ থেকে আগলে ধরে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন বাড়ির বউ ফিরোজা বেগম। রাবিয়া বেওয়া বয়সের কারণে এবং খাতিমন কয়েক বছর আগে স্ট্রোক করার ফলে চলাচলের শক্তি হারিয়েছেন। কিন্তু ভোটের আমেজ তাদের ঘরে থাকতে দেয়নি। তাই ছেলের বউয়ের কাঁধে ভর দিয়েই তারা হাজির হয়েছেন ভোটকেন্দ্রে।
উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবিয়া বেওয়া। ১৩ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলের সংসারেই তার ঠাঁই। জীবন সায়াহ্নে এসেও নির্বাচন এলেই সব কষ্ট উপেক্ষা করে এভাবেই হাজির হন ভোটকেন্দ্রে।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শ্রবণ ক্ষমতা হারিয়েছেন রাবেয়া বেওয়া। কথা বলতেও কষ্ট হয়। তবু ভোটের কথা উঠতেই মুখে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আধো–আধো কণ্ঠে বলেন, এভাবেই ভোট দিই, ভালোই লাগে। কথার সঙ্গে সঙ্গেই হাসিতে ভরে ওঠে শতবর্ষী এই বৃদ্ধার মুখ।
রাবিয়া বেওয়ার পুত্রবধূ ফিরোজা বেগম বলেন, আমার শাশুড়ির বয়স ১০০ পার হয়েছে। আর ফুফু শাশুড়ি (খাতিমন) অসুস্থ। কিন্তু ভোট এলে তারা বাড়িতে থাকতে চান না। প্রতি বছর ভোট এলেই শাশুড়ি মা এভাবেই আমার বা বাড়ির কারও সাহায্য নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। তাদের এই আগ্রহ দেখে আমারও ভালো লাগে।
নাটোর জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি। জেলায় নারী ভোটার রয়েছেন ৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০৪ জন এবং পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৭০ হাজার ৬৮৪ জন।তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৮ জন।
এবারের নির্বাচনে জেলায় চারটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আশিকুর রহমান/এনটি