‘ভাগ্য আছিল, ভোট দিতে আইছি’

জীবনের শেষ ভোট দিয়ে গেলাম। কত ভোট দিতে আইছি। শেষ বয়সে এসে ভোট দিতে আইছি। ভাগ্য আছিল, ভোট দিতে আইছি। এরকম করেই কথা গুলো বলছিলেন ভোট দিতে আসা বৃদ্ধা আক্তার বানু (৮০)। আক্তার বানু টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভার রায়বাড়ী এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাসাইল মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছেলের বউ, মেয়ে ও নাতীর সাথে ভোট দিতে আসেন এই বৃদ্ধা। ভোট কেন্দ্রের বাহিরে থেকে কোলে করে এক আনসার সদস্য ভোট কক্ষে নিয়ে যান আক্তার বানুকে।
বৃদ্ধা আক্তার বানু বলেন, ‘আর কবে ভোট দিতে পারব জানি না। জীবনের শেষ ভোট দিয়ে গেলাম। ভাগ্য আছিল, ভোট দিতে আইছি। বউ, নাতী, মেয়েকে নিয়ে ভোট দিতে আইছি। আমি একবছর চলাফেরা করতে পারি না। কথা বলতেও সমস্যা হয়।’

বৃদ্ধার বড় ছেলের বউ মিনু বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমাকে বলছে,আমি ভোট দিব। আমাকে ভোট দিতে নিয়ে যাও।শাশুড়িকে ঘর থেকে কোলে করে গাড়িতে নিয়ে আসছি।’
‘একবছর ধরে সে হাঁটতে পারে না।কথাও ভালো মতো বলতে পারে না।আমার শাশুড়ির শেষ ইচ্ছা ছিল ভোট দেবে। সেই ইচ্ছাই পূরণ করেছি।’
বৃদ্ধার নাতী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার দাদি অসুস্থ হাঁটতে পারে না। কথা বলতেও সমস্যা হয়। গতকাল থেকে বলতেছে ভোট দিতে আসবে। ভোট দেয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। এইজন্য অটোভ্যান গাড়িতে করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। ভোট শেষে দাদিকে নিয়ে যাচ্ছি।’
কেন্দ্রের আনসার সদস্য পলাশ সরকার বলেন, ‘আমি এই প্রথম কোন ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছি। আমার এই দায়িত্বের মধ্যে একজন বৃদ্ধাকে আমি কোলে করে ভোট কক্ষে নিয়ে গেছি। যারা শারীরিক ভাবে অসুস্থ, বয়স্ক শারীরিক ভাবে সক্ষমতা নেয় ভোট দিতে আসতেছে, আমি তাদের সাহায্য করছি। এতে আমার খুবই ভালো লাগছে।’
আরিফুল ইসলাম/এমআইকে