কুড়িগ্রামে ৪টি আসনে জামানত হারালেন ১৮ জন প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৮ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৬ প্রার্থীসহ ১৮ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জেলা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়েছে।
জামানত হারালেন যারা
কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯৫। এর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন তিন জন প্রার্থী। তারা হলেন– ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারী হাতপাখা প্রতীকে, তার প্রাপ্ত ভোট ৩৮ হাজার ৮০৭; গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বিন ইয়ামিন, মোল্লা ট্রাক প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ২৩১,আরেক প্রার্থী জাকের পার্টির আব্দুল হাই। গোলাপ ফুল প্রতীকে এই প্রার্থী পেয়েছেন ২ হাজার ৯০৭ ভোট। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-২ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাপা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ ৭ জন। ৬ লক্ষাধিক ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৬৩১। এ আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পাটির (জাপা) প্রার্থী ও সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ১৩ হাজার ৮৪৬), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নূর বখত (হাতপাখা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৮২৯), নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস সালাম (কেটলি প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ১০০), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী নূর মোহাম্মদ (কাস্তে প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৬৫৭), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান (কাঁঠাল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৪২১), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান (ঈগল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৯০৪) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৩১৪)। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ শাপলা কলি প্রতীকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন জাপা প্রার্থীসহ ৩ জন। ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭০ ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯৩৫। কঙ্ক্ষিত ভোট না পাওয়ায় এই আসনে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পাটি জাপার প্রার্থী আব্দুস সোবহান (লাঙ্গল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২ হাজার ১১২), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সরকার মো. নুরে এরশাদ সিদ্দিকী (ট্রাক প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৫৯৯) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাফিউর রহমান (হাঁস প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ২৩৯)। সাফিউর রহমান একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন।
এই আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫ জনই জামানত হারিয়েছেন। এই আসনেও জাতীয় পাটির (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় পাটির প্রার্থী কেএম ফজলুল মণ্ডল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৮০ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ২৩১ ভোট।
৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ ভোটারের এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪০। জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের ন্যূনতম ২৮ হাজার ২৬৭ ভোট প্রয়োজন। এই আসনে জামানত হারানো অপর প্রার্থীরা হলেন–স্বতন্ত্র প্রার্থী রুকুনুজ্জামান, বালতি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার ৯০২ ভোট,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী রাজু আহমেদ কাঁচি প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩২০ ভোট। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী শেখ মোহামমদ আব্দুল খালেক মই প্রতীকে পেয়েছেন ২০১ ভোট।
এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
মমিনুল ইসলাম বাবু/এসএইচএ