রাজবাড়ীর দুটি আসনে জামানত হারিয়েছেন ৯ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় ওই ৯ প্রার্থীর জামানত বাবদ জমা দেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। এই আসনে এবার প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৯০২। নিয়ম অনুযায়ী জামানত রক্ষায় একজন প্রার্থীকে পেতে হতো ৩৩ হাজার ৯৮৮ ভোট।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট।
অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে জাকের পার্টির মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস (গোলাপ ফুল) ৮ হাজার ৮৭ ভোট এবং জাতীয় পার্টির খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু (লাঙ্গল) পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮৬ ভোট। প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় এই দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির প্রার্থী বাচ্চু এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো জামানত হারালেন।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩। এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪। জামানত রক্ষায় প্রার্থীদের প্রয়োজন ছিল ৪৫ হাজার ৪০০ ভোট।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট।
এই আসনে জামানত হারানো ৭ জন প্রার্থী হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু (৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল মালেক (৮ হাজার ৫০৩ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. শফিউল আজম খান (২ হাজার ৫২ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা (১ হাজার ২১৯ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের মো. জাহিদ শেখ (৬৩৩ ভোট), খেলাফত মজলিসের কাজী মিনহাজুল আলম (৩২১ ভোট) এবং সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল মালেক মন্ডল (২৬৬ ভোট)।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়। কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হলে সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/বিআরইউ