১৬ লাখ টাকা নিয়ে উধাও কোচিং সেন্টারের মালিক, আদালতে মামলা

রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী সদর আমলি আদালত কোর্টে মামলা হয়েছে। মাহফুজা আক্তার মিতু (১৮) নামে এক শিক্ষার্থী কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতিসহ অজ্ঞাত ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে এই মামলা করেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার জানান, তিনিসহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে নান্নু টাওয়ারের ৩য় তলায় নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করেন। কোচিং সেন্টারের মালিক ও পরিচালক মেহেদী হাসান চিসতি তাদের জানান, প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ ৮ হাজার ২০০ টাকা লাগবে এবং সম্পূর্ণ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।
কোচিং সেন্টার থেকে তাদের জানানো হয় সব শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে ৫ দিন ক্লাস এবং সপ্তাহে ১ দিন পরীক্ষা এবং প্রতি মাসে সব বিষয়ে মডেল টেস্ট করানো হবে। শিক্ষার্থীদের ৮ মাস যাবৎ কোচিং করানো হবে। তখন মাহফুজা আক্তার মিতুসহ সবাই কোচিং সেন্টারের মালিকের কথায় বিশ্বাস করে ৩০ জন গত ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট, ২৮ অক্টোবর ও ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন।
তিনি আরও জানান, প্রথম ১০ দিন ক্লাস নেওয়ার পর থেকেই পরিচালকসহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন ও ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দেন। ভর্তির সময় তাদের যে বই, প্রশ্ন ব্যাংক, মডেল টেস্ট বই দেওয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে তাদের পুরাতন বই দেওয়া হয়।
মাহফুজা আক্তার আরও জানান, কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষার কথা বলে মাথাপিছু ২০০ টাকা হারে গ্রহণ করার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। তখন তারা কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করতে পারেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মাহফুজা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। অভিভাবকরা মেহেদী হাসান চিশতীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্লাস না নেবেন না এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানান।
পরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কোচিং সেন্টারের মালিককে পেয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাকা ফেরত দেবেন না বলেও সে জানান। তখন কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ওই সময় শিক্ষার্থীরা টাকা পুনরায় চাইলে কোচিং সেন্টারের মালিকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।
মাহফুজা আক্তার মিতু বলেন, কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্লাস, পরীক্ষা, মডেল টেস্ট ও প্রশ্ন ব্যাংক সরবরাহ না করে প্রায় ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. শাহরিয়ার জামান রাজিব বলেন, নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে মাহফুজা আক্তার মিতু নামের এক শিক্ষার্থী মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সিং বাদেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, বিসিএস কোচিং, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং, ক্যাডেট ভর্তি কোচিং, স্পোকেন ইংলিশ, প্রাইমারীর শিক্ষক নিয়োগ কোচিংসহ সরকারি চাকরির কোচিং করানো হতো। কিন্তু প্রায় একমাসের বেশি সময় ব কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।
৫১ তম বিসিএস প্রস্তুতির জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম বলেন, এককালীন ৯ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে গত তিনমাসে আগে এই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু গত এক মাস ধরে তারা কোনো ক্লাস নিচ্ছে না। কোচিং সেন্টারে গেলে তালাবদ্ধ দেখা যায়। তারা আমার সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিসতির বক্তব্য নিতে তাকে ফোন করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এএমকে