চট্টগ্রাম বন্দর অচলের প্রধান সমন্বয়ককে গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বন্দরে অচলাবস্থা তৈরির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিনই (আজ) মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে বন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, বন্দর অচলের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের করা একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ইব্রাহিম খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। গতকাল রাত ৮টার দিকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচির ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে গিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর শ্রমিকেরা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আন্দোলন স্থগিতের দিনই বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে এবং তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানায়। এর প্রতিবাদে গত শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর আবারও ধর্মঘটের ডাক দেন। এর ফলে গত রোববার সকাল থেকে বন্দরের জেটি, টার্মিনাল ও কনটেইনার ডিপোসহ সব স্থানে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
গত রোববার দিবাগত রাতেই ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি চুক্তি না করার বিষয়ে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এবং বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর বক্তব্য ও নেতাদের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধর্মঘট স্থগিত থাকবে।
এমআর/বিআরইউ