নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসলো না

'ও আল্লাহ গো, আমার কেনো এই ঘটনা ঘটল। ও আল্লাহ গো, আমি কি নিয়ে থাকব। আমি একলা বাড়িতে কি করে থাকব। আমাকে কেডা দেখবে গো- ও আল্লাহ।'
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে নগরীর ডাঁশমারি এলাকার নিহত মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে তার স্ত্রী নাদেরা বেগম এমনভাবে বিলাপ করছিলেন। এরআগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরীর ডাঁশমারির খোঁজাপুর কবরস্থানের প্রচীরের পাশে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন মোস্তাফা (৫০)।
বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার স্বামী মোড়ে চা খেতেও যায় না। বাড়িতে আমাকে চা করে দিতে বলে, তারপরে তখন সে খায়। কোনো দল, পার্টিতে থাকে না- যায়ও না। নামাজ পড়ে এসে বাড়িতে ঢোকে আর বাইর হয় না। অজু করে নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসল না।
নিহত মোস্তফার কি কোনো শত্রু ছিল? এমন কথার উত্তরে তার স্ত্রী নাদেরা বেগম বলেন, হ্যাঁ শত্রু ছিল। প্রতিবেশী উকিল (নিহতের স্বজনের দাবি) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের গণ্ডগোল (মারামারি) হয়েছিল। এক বছর আগের মারামারি নিয়ে বিরোধ ছিল। তাছাড়া কারও সঙ্গে সমস্যা নেই। দ্যাশের (দেশের) মানুষ সবাই ভালোবাসে।
নিহতের পরিবারের দাবি, উকিল নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। উকিল একই এলাকার নহির উদ্দিনের ছেলে। উকিল পেশায় অন্যের জমি কেনাবেচা করেন। তবে উকিলের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে বাড়ির মূল গেটে ছেড়া মশারির দড়ির মতো করে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রতিবেশীরা তার সন্ধান দিতে পারেনি। এছাড়া আশেপাশের মানুষও তেমন কিছু জানাতে পারেনি। তাই অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে উকিলের প্রতিবেশী শাপলা বলেন, রাত থেকে তারা বাড়িতে নেই। বলতে পারব না। কেন তারা বাড়িতে নেই। এছাড়া আমাদের কাউকে কিছু বলেও যায়নি।
নিহতের ভাতিজি শাকিলা দাবি করে বলেন, একবছর আগে মারামারি হয়েছিল। উকিলরা আমার চাচা ও ভাইদের মেরেছিল।
সেই সময় প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন উকিল। সেই ঘটনা জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারাও উকিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এছাড়া নিহত মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তার বাড়িতে স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন। নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজনরা। এছাড়া বাড়ির সামনে সড়কের পাশে চেয়ারে বসা স্বজনরাও কান্না করছে। তার পাশেই নিহতের মরদেহ ধোয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাকে বিকেলে খোঁজাপুর কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে। নিহত মোস্তফা মিলে কাজ করতেন।
মোস্তফাকে হত্যার ঘটনার পরের দিন রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর মতিহার থানার মামলা করেছেন নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম। মামলায় তিনজনকে আসামি করেছেন তিনি। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আসামিদের নাম জানায়নি।
এ বিষয়ে মতিহার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলায় সন্দেহভাজন তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নিহতের মরদেহ আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শাহিনুল আশিক/এসএইচএ