নিঝুম দ্বীপে মিলল বিরল প্রজাতির মিল্ক ফিশ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ এলাকায় বিরল প্রজাতির প্রায় ২ কেজি ওজনের একটি মিল্ক ফিশ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ।
জানা গেছে, রোববার সকালে হাতিয়া উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আগমনী কিল্লা এলাকার একটি পুকুরে মাছটি পান স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মান্নান।
মৎস্য ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের জামাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। মাছটি নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কেফায়েত উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন মাছ আগে কখনও দেখা যায়নি। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ওই পুকুরে প্রতি বছর ইলিশ মাছ পাওয়া যায়।
মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সকালবেলা পুকুরে মাছটি দেখতে পাই। প্রথমে বুঝতে পারিনি এটি কী ধরনের মাছ। পরে সবাই বলছে, এটি মিল্ক ফিশ। আমার আত্মীয় স্বজন ছিল সবাইকে নিয়ে রান্না করে খেয়েছি। খুব সুস্বাদু এবং কিছুটা লবনাক্ত ভাব রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মিল্ক ফিশ (চ্যানোস চ্যানোস) রশ্মিযুক্ত মাছের একটি বিস্তৃত প্রজাতি, যা সাধারণত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি Chanidae পরিবারের একমাত্র জীবিত প্রজাতি এবং Chanos গণেরও একমাত্র সদস্য। সাধারণত চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে এ মাছের উপস্থিতি দেখা যায়। নোয়াখালী জেলায় সম্ভবত এটিই প্রথমবারের মতো মিল্ক ফিশ শনাক্ত হলো, তাও আবার একটি পুকুরে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, এটি একটি আশাব্যঞ্জক খবর। আমি ওই পুকুরটি আগে দেখেছি, সেখানে ইলিশ মাছও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানির সঙ্গে এই মিল্ক ফিশটি পুকুরে প্রবেশ করেছে। উপকূলীয় এলাকায় এমন বিরল প্রজাতির মাছ পাওয়া পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
হাসিব আল আমিন/এসএইচএ