দক্ষিণ জনপদের কণ্ঠস্বর ঢাকা পোস্ট

চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু ঢাকা পোস্টের। করোনার ভয়াবহতার মধ্যেই ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘সত্যের সাথে সন্ধি’ স্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের। সেই ভয়াবহ পরিবেশ-পরিস্থিতিতেও হার মানেননি ঢাকা পোস্টের সহযোদ্ধারা। প্রতিনিয়ত সব আপডেট দিতে ভয় আর শঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে ছুটে চলেছেন অদম্য গতিতে।
করোনাকালে দক্ষিণাঞ্চলে সহকর্মীরা ছুটে চলেছেন অদম্য গতিতে। গেল ৫ বছর পাঠকের প্রত্যাশা পূরণে কাজ আমরা করেছি। দীর্ঘ পাঁচ বছর ঢাকা পোস্টের সাথে পথচলা সহজ ছিল না, তবে প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি অর্জন আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে। আর এসব কারণেই আজ পাঠকের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা পোস্ট। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে থেকে সার্বক্ষণিক দ্রুততার সঙ্গে তথ্য তুলে ধরেছে ঢাকা পোস্টের সহকর্মীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলের মানুষের পাশে থেকে পাঠকদের কাছে দক্ষিণ জনপদ তথা খুলনা বিভাগের সব আপডেট তুলে ধরেছি। নির্বাচন, খেলার মাঠ, তীব্র শীত, প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, বন্যায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এছাড়াও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আন্দোলনে টিয়ারগ্যাস সহ্য করে তথ্য সংগ্রহে মাঠে থাকা, আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ঢাকা পোস্টে। প্রিয় কর্মস্থল আমাদের শিখিয়েছে মানবিক হয়ে উঠতে। যেখানে অসহায় মানুষকে নিয়ে লেখার সুযোগ করে দিয়েছে। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে পথচলায় অসহায় মানুষকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। এটাই আমাদের অর্জন, এটাই আমাদের সামনে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করে।
২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক যাত্রা থেকে শুরু করে গুটিগুটি পায়ে ৬ বছরে পদার্পণ করেছে প্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা পোস্ট। শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে নিজেকে আকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। গেল চার বছরে সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অসহায়ত্ব, দুর্নীতি-অনিয়ম, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সুন্দরবনের জন্য হুমকিসহ জীব-বৈচিত্র, প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে প্রতিবেদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উপকূলের মানুষের অবস্থা সরেজমিন প্রতিবেদন, খেলাধুলা, বিনোদন, অগ্নিকাণ্ড, উদ্ভাবনী সফলতা, তরুণ উদ্যোক্তা, অর্থনীতি, মৎস্য, কৃষি, উন্নয়ন, অসঙ্গতি সব কিছুই পাঠকের কাছে তুলে ধরেছি ঢাকা পোস্টের মাধ্যমে। আর এই সময়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করতে গিয়ে নিজের সফলতার পাল্লাটাও ভারি হয়ে যায়।
ঢাকা পোস্টে নিউজ করার ফলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে খুলনার সংগ্রামী নারী তসলিমা বেগম মুসলিমা। ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘স্বামী হার্টের রোগী, সাইকেলে ফেরি করে সংসারের হাল ধরেছেন মুসলিমা’ শিরোনামে প্রকাশিত নিউজ দেখে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সমাজের বিত্তবানেরা। মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে বর্তমানে তিনি খালিশপুরের হাউজিং বাজারে একটি ভ্যারাইটিজ স্টোর ও চায়ের দোকান দিয়েছেন। বর্তমানে স্বামী সন্তান নিয়ে ভালো আছেন সংগ্রামী এই নারী।
২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সাবেক ফুটবলার এখন রিকশাচালক’ শিরোনামে সিরাজুল ইসলামের জীবনের অসহায়ত্বের গল্প তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে তার পাশে দাঁড়িয়েছিল সমাজের বিত্তবানেরা।
২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল ‘নামের ভুলে আটকে আছে পাটকলের ২ হাজার শ্রমিকের শেষ সম্বল’ শিরোনামে প্রকাশিত ঢাকা পোস্টের সংবাদের পর পাটকল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কাজ শুরু করে। অসংখ্য শ্রমিক পরবর্তীতে তাদের পাওনা ফিরে পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ‘ওজোপাডিকোর ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের দাবি’ শিরোনামে ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে একই বছরের ২২ ডিসেম্বর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
২০২৪ সালের ১৩ মে ঢাকা পোস্টে ‘তবুও জিপিএ-৫ পেয়েছে আরিফা’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় এক বছর ধরে কোমরে ব্যথা ও পেশিতে খিঁচুনি (muscle spasm) রোগে আক্রান্ত আরিফা বেশিক্ষণ বসে থাকতে না পারায় লেখাপড়া করেন শুয়ে থেকে। অ্যাম্বুলেন্সে করেও খুলনা জিলা স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে তাকে। শুয়ে-বসে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পেয়েছেন জিপিএ-৫। খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড় এলাকার একটি কোয়ার্টারে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও অর্থাভাবে তার চিকিৎসা ও পরবর্তী লেখাপড়া নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসে খুলনা ব্লাড ব্যাংক এবং গণমাধ্যমের কর্মীরাও।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনটি নজরে এলে আরিফাকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন মানবিক ব্যক্তিরা। বিভিন্ন স্থান থেকে আরিফার জন্য সহযোগিতা আসে ৩ লাখ টাকা। আর ২৪ জুন রোটারী ক্লাব অব মতিঝিল শাখার নেতারা খুলনায় এসে ৪ লাখ টাকার চেক তুলে দেন আরিফা ও তার মায়ের হাতে। এরপর আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফায় ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেন আরিফ। কিছুদিন ভালো থাকার পর ফের অর্থাভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা পোস্ট চলতি বছরে তাকে নিয়ে ফের মানবিক সংবাদ প্রকাশ করে। আবারও মানুষ তার সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন আরিফার মা সুলতানা পারভীন। তিনি বলেন, দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য আরও আার্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল ‘চিড়া-খেজুরেই এতিমদের ইফতার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি নজরে এলে অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়ায়।
খেলার মাঠে দুই হাতের কব্জিহীন অদম্য আরমানের এগিয়ে চলার গল্প তুলে ধরা এবং পরবর্তীতে সেটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আরমানকে নিয়ে বেশ কিছু স্টোরি করে এবং তাকে নিয়ে লাইভ প্রোগ্রাম করে।
এছাড়াও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় মীম-সুশোভনের প্রথম হয়ে ওঠার গল্প, ট্রেন যাত্রায় নব দিগন্তের সূচনা, পদ্মাসেতু, সুন্দরবন, নদ-নদীতে ইলিশ বাড়লেও সাধারণের নাগালের বাইরে থাকার কারণ তুলে ধরা, দাম বৃদ্ধির নেপথ্যের ৭ কারণ, শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা, খুলনার উন্নয়নে নাগরিক নেতাদের দাবি তুলে ধরা, ডেঙ্গু, চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ, ভেনামী চিংড়ি চাষ ও সম্ভাবনা, খুলনার বন্ধ পাটকলের অসহায় শ্রমিক-কর্মচারীদের কথা তুলে ধরা, নিউজপ্রিন্ট ও হার্ডবোর্ড মিল চালু না হওয়া, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নগরীর জলাবদ্ধতা, ডাকাতিয়ার বিলে জলাবদ্ধতা, কৃষি, মৎস্য, ভোটার, খুলনায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরাসহ নানা ধরনের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে ঢাকা পোস্টে।
শুধু খুলনা জেলা ও মহানগরের নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র তুলে ধরেছে একঝাঁক তরুণ সহকর্মীরা।
যশোর
বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় ভর্তি হতে পারছিলেন না নিপুণ বিশ্বাস। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ধূসর হয়ে যায় তার। ভর্তি নামের সোনার হরিণ ধরা দিয়েও হারিয়ে যায় তার হাত থেকে।
নিপুণ বিশ্বাসের বাড়ি নীলফামারীর সদর উপজেলা লক্ষ্মীচাপে। তার বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নাপিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় মেধাবী নিপুণ ছোটবেলা থেকে আর্থিক অনটনের শত বাধা পেরিয়ে নীলফামারীর মশিয়ুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।
২০২০-২১ সেশনে ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ ভর্তির সুযোগ পান তিনি। তবে নিপুণ বিশ্বাস এ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানতে পারেন রোববার রাত সাড়ে ১১টায়। বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের বলা হয়, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু কী করে সম্ভব? ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিপুণ তখন নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপের নিজ বাড়িতে। ওই রাতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে নীলফামারী থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন নিপুণ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তার ১২টা পেরিয়ে যায়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্ট। পরে কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তার ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের বিশেষ নির্দেশে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান নিপুণ বিশ্বাস। মানবিক দিক ও নিপুণের পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে তার ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।
ভর্তি নিশ্চিতের বিষয়টি যখন নিপুণ জানতে পারেন তখনই খুশিতে কেঁদে ফেলেন। এ সময় ঢাকা পোস্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে নিপুণ বলেন, সাংবাদিকরা যদি আমার এই বিষয় নিয়ে লেখালেখি না করতেন তাহলে মনে হয় যবিপ্রবি ভিসি স্যারের নজরে আসতো না।
মাগুরা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা চরম সংকটে পড়েন। গত ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) ওই আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও জুমার নামাজে পাশের মসজিদে অবস্থান করায় ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষক প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনাটি ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) ঢাকা পোস্ট সংবাদ প্রকাশ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে মানবিক সাড়া পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদ ঢাকা পোস্টের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি তাছিন জামানের সাথে যোগাযোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান। তার আর্থিক সহযোগিতায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৭টি কোরআন শরিফের রেহাল ক্রয় করা হয়, যা সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আগুনে সবকিছু হারিয়ে হতাশ শিক্ষার্থীদের জন্য এই সহায়তা নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। রেহাল পেয়ে তারা আবার স্বাভাবিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ঢাকা পোস্ট এবং কানাডা প্রবাসী শিরীন মমতাজ মোরশেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ
প্রতিনিয়ত অসংখ্য খবর সংগ্রহ করি, লিখি, প্রকাশ করি, কিন্তু কিছু সংবাদ সত্যিই হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। মনে পড়ে, সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো ফারুকের কথা। ট্রাক দুর্ঘটনায় একটি পা কাটা গেলেও প্রাণে বেঁচে যান ফারুক। কিন্তু তার পরিবারে নেমে আসে অভাব নামের কালো ছায়া। একটি প্লাস্টিকের (কৃত্রিম) পা লাগাতে চেয়েছিলেন, টাকার জন্য তাও কিনতে পারছিলেন না। তখনি ‘পা হারানো ফারুকের কাটছে দুঃসহ জীবন’ এই শিরোনামে ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ঢাকা পোস্টের মাধ্যমেই তার স্বপ্ন পূরণ হয়। ফিরে পায় নতুন পৃথিবী।
আবার গত ২৪ মার্চ ২০২১ সালে দরিদ্র ভ্যানচালক আবদুল করিম দুই মেয়ে থাকার পরও তার স্ত্রী একটি ছেলে সন্তানের আশায় আবারও সন্তান নেন। স্ত্রী আলোমতির কোলজুড়ে আসে তিনটি জমজ ছেলেসন্তান। তাদের নাম রাখা হয় আহাদ, আরিফ ও আলিফ। মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায়, বাজার থেকে দুধ কিনে খাওয়াতে হচ্ছিল। কিন্তু বাচ্চাদের দুধ কেনা, পরিবারের খাদ্যদ্রব্য ও অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা খরচ ও ওষুধ কিনতে পারছিল না। এ অবস্থায় ‘তিন সন্তানকে খাওয়াতে পারছি না’ এই শিরোনামে ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশ হলে, জেলা প্রশাসকসহ সমাজের বিত্তবানদের অনেকে এগিয়ে আসেন।
সাতক্ষীরা
সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর দুঃখ দুর্দশাসহ নানা অনিয়ম-অসঙ্গতি তুলে ধরেছে ঢাকা পোস্টের সহকর্মীরা। মানবিকতার গল্প তুলে ধরতে ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত একের পর এক প্রতিবেদনের পর বদলেছে বহু অসহায় মানুষের জীবনের গল্প। কারও চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে, কারও মাথার ওপর জুটেছে আশ্রয়, আবার কেউ ফিরে পেয়েছে হারানো ভরসা। এসব মানবিক সংবাদ সমাজের সচেতন মানুষদের নাড়া দিয়েছে, উদ্বুদ্ধ করেছে সহযোগিতার হাত বাড়াতে। ফলে গণমাধ্যমের কলম হয়ে উঠেছে অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর।
বাগেরহাট
পথচলা মসৃণ ছিল না। ছিল ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ছিল বন্যার পানিতে ডুবে থাকা জনপদ, ছিল ভাঙনের কান্না। উপকূলের মানুষ যখন ঘর হারিয়েছে, আমরা দাঁড়িয়ে থেকেছি তাদের পাশে—কলম আর ক্যামেরা নিয়ে। মাঝরাতে ফোন বেজেছে, ছুটে গেছি ঘটনাস্থলে। কখনো নদীর ঘাটে, কখনও হাসপাতালের করিডোরে, কখনও রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তপ্ত মাঠে। সেই গল্পগুলো তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে ঢাকা পোস্ট। ঢাকা পোস্ট আমাদের শিখিয়েছে দ্রুততা, নির্ভুলতা আর দায়িত্ববোধ। শিখিয়েছে মাঠে দাঁড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় সত্য খুঁজে বের করতে। শিখিয়েছে, জনপ্রিয়তার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা বড়।
এছাড়াও ঢাকা পোস্টে নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের সহকর্মীরা গেল ৫ বছরে তুলে ধরেছেন নিজ নিজ জেলার অসহায় মানুষের গল্প, দুর্নীতি, অনিয়ম, উন্নয়নসহ নানা তথ্য।
সহকর্মীদের অদম্যতায় দেশের সকল মানুষে আস্থা আর বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমে পরিণত হয় ঢাকা পোস্ট। মাত্র অল্পদিনেই দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় নিউজ পোর্টালটি। পাঠকের আস্থা আর ভালোবাসায় আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাত্র ১০ মাসেই ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের সকল অনলাই নিউজ পোর্টালকে পাশ কাটিয়ে অ্যালেক্সা র্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে পৌঁছে যায় ঢাকা পোস্ট। পাঠকপ্রিয় এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি এখনো পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাঠকের চাহিদা পূরণে কাজ করে চলেছে। ঢাকা পোস্ট শুধু একটি নিউজ পোর্টাল নয়, এটি একটি পরিবার। যে পরিবারের অভিভাবক আছে, ভাই-বোন অর্থাৎ সহকর্মী রয়েছে। আর এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমিও গর্বিত। গেল বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশের সদস্যদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘মিট দ্যা এডিটর’। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে অনুপ্রাণিত করেছে। আগামীতেও প্রিয় প্রতিষ্ঠান ঢাকা পোস্ট পাঠকের আস্থা ও অকুন্ঠ ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাবে- সেই প্রত্যাশা করি। ঢাকা পোস্ট তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সার্বিক মঙ্গল কামনায় কাজ করছে।
আরএআর