রাঙামাটিতে গভীর রাতে আগুনে পুড়ে ছাই বসতঘর

রাঙামাটিতে আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ লাইনের পেছনে দোল আদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় তারা। এ সময় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রাঙামাটি ইউনিটের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য রিতা চাকমা (৩৫) জানান, পরিবারের চার সদস্য ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ঘরের ভেতর আগুন দেখতে পেয়ে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। তার চিৎকার ও আগুন দেখে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
তিনি আরও জানান, ঘরের ভেতরে রাখা তার কাপড়ের ব্যবসার সব মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও ব্যাংকের চেকসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। আকস্মিক আগুন লাগায় তারা কিছুই বের করতে পারেননি এবং এক কাপড়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার হোসেন নামে একজন জানান, বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে তার ঘুম ভাঙে এবং বাইরে এসে তিনি আগুন দেখতে পান। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনিও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায় বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাঙামাটি স্টেশনের স্টেশন অফিসার নুরুল হুদা বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধারণা করছি প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকা হতে পারে। এ ছাড়া, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার রাস্তা সরু হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
এএমকে