মির্জা ফখরুল মন্ত্রী হওয়ার খবরে নেতাকর্মীদের আনন্দ-উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও–১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শপথ গ্রহণের পর জেলা শহরের কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদ্যাপন করেন।
জেলা বিএনপি কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনারুল ইসলাম শপথের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মিষ্টি নিয়ে এসে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, স্যার পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। খুব ভালো লাগছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা ও মুদি দোকানী আবুল হাশেম বলেন, আলমগীর স্যার পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘদিন অবহেলিত ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশাও জানান তিনি।
প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা অনেক, নতুন মন্ত্রী তা পূরণে সক্ষম হবেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী মোবাইল ফোনে বলেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এ দায়িত্ব এসেছে এবং এতে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আনন্দ বিরাজ করছে।
নির্বাচনে জয় ও রাজনৈতিক পথচলা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও–১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।
১৯৪৮ সালের ১ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে প্রায় ১৭ বছর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার নতুন সরকারে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও সেবামুখী কার্যক্রমে নতুন গতি পাবে ঠাকুরগাঁও।
রেদওয়ান মিলন/এসএইচএ