নোবিপ্রবিতে নিয়োগে দল-মতের প্রাধান্য পায়নি : উপাচার্য

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)-এ নিয়োগের ক্ষেত্রে দল-মত, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের কোনো প্রাধান্য দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা, টেকনিক্যাল পরীক্ষা (যেখানে প্রযোজ্য), উপস্থাপনা ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সংরক্ষিত রয়েছে। কতজন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, কতজন উত্তীর্ণ হয়েছেন—সব তথ্য যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত। কে প্রথম বা দ্বিতীয় হয়েছেন, তা-ও দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো দলীয় বিবেচনা করা হয়নি। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন, তারাই নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কোনো ভিন্ন অভিযোগ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি কখনও মনে করেন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি তা সাদরে গ্রহণ করবেন। তবে দায়িত্বে থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময়কালে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নোবিপ্রবি একাডেমিক ও গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে গবেষণা সূচকে নোবিপ্রবি বিশ্বে ৭২২তম স্থান এবং বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১২তম অবস্থান অর্জন করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের।
অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি ৩৩৪ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে নতুন একাডেমিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
গবেষণায় উৎসাহ দিতে ‘বেস্ট ফিমেল রিসার্চার অ্যাওয়ার্ড’ চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, গত দেড় বছরে বিশ্বের খ্যাতনামা ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও একাডেমিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে হিট প্রজেক্টে নোবিপ্রবির শিক্ষকরা সাতটি প্রকল্প অর্জন করেছেন। এছাড়া ৩০টি শ্রেণিকক্ষ ডিজিটালাইজড করা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে চার ধাপের যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে একাডেমিক যোগ্যতা যাচাই, লিখিত পরীক্ষা, উপস্থাপনা ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগেও লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কর্মশালা আয়োজন, চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি এবং আবাসিক হলে গ্যাস সংযোগ, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ভেন্ডিং মেশিন, লন্ড্রি ও সুপারশপের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও মানোন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক ‘জামায়াতিকরণ’-এর অভিযোগ তুলে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক নেতারা। একইসঙ্গে ভাতা বণ্টন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘অনিয়মের শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করেন সাদা দলের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে সাদা দলের সভাপতি ও ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। এরমধ্যে ৩১ জন চিহ্নিত জামায়াত নেতাকর্মী, একজন বিএনপি-সমর্থিত এবং দুজন নির্দলীয় হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন নারী শিক্ষকের একজন জামায়াতপন্থী শিক্ষকের স্ত্রী বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া মুসলিম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
শ্বেতপত্রে আরও দাবি করা হয়, নিয়োগপ্রাপ্ত ২১ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯ জনই জামায়াতপন্থী। তাদের মধ্যে সাতজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের পদধারী নেতা ছিলেন। এছাড়া ৬৯ জন কর্মচারীর মধ্যে ৫৫ জন জামায়াতের নেতাকর্মী—এমন অভিযোগও উল্লেখ করা হয়। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের তদবিরে এসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
হাসিব আল আমিন/এসএইচএ