চেকপোস্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু, পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

জামালপুর-শেরপুর ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে ট্রাকচাপায় বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে নিহত ইশতিয়াক আহম্মেদের পরিবার ও তার বন্ধুমহল।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। এসময় তারা দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান। এরআগে, গতকাল শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের চেকপোস্টে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশতিয়াকের বন্ধুরা অভিযোগ করেন, ব্রিজসংলগ্ন চেকপোস্টটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং গাড়ি থামানোর সংকেত নিয়মতান্ত্রিক ছিল না। তাদের দাবি, পুলিশের সংকেতের কারণে মোটরসাইকেলটি দুই ট্রাকের মাঝখানে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দেলোয়ার মাহমুদ প্রায় ৩০-৩৫ মিনিট জীবিত ছিলেন কিন্তু দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন।
বন্ধুমহল প্রশ্ন তোলে—গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র তল্লাশি করা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব, নাকি থানা পুলিশের? তারা বলেন, “দুর্ঘটনার পর ভিডিও করা কি পুলিশের দায়িত্ব, নাকি সাংবাদিকদের?”
তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। প্রয়োজনে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
নিহতরা হলেন—শেরপুর সদর উপজেলার চরমুচরিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ার চর এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে দেলোয়ার মাহমুদ (৫০) ও তার ছেলে ইশতিয়াক আহম্মেদ (২৩)। এ ঘটনায় দেলোয়ারের ছোট ছেলে আবরার (৫) অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে জামালপুর থেকে গ্রামের বাড়ি শেরপুরের কেন্দুয়ার চরে ফিরছিলেন দেলোয়ার মাহমুদ। সঙ্গে ছিল তার দুই ছেলে। ব্রিজপার এলাকায় পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় শেরপুরগামী একটি ট্রাককে থামানোর জন্য পুলিশ ইশারা করলে ট্রাকটির পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ঠিক তখন বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার ও ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়।
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান, সাব্বির আহমেদ, কাউসার আহমেদ, রাব্বি নাঈম হাসান, নিহতের চাচাতো ভাই সমীর হোসেন প্রমুখ।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালন নিয়মতান্ত্রিকভাবেই চেকপোস্ট করা হচ্ছিল। সে সময় তাকে চেকপোস্টে থামানোর বিষয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সেটা অস্বীকার করেন। ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নাইমুর রহমান তালুকদার /এসএইচএ