শেরপুরে চোর সন্দেহে যুবককে ঝুলিয়ে পিটুনি

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা পশ্চিম পাড়া সাতঘড়িয়া গ্রামে চোর সন্দেহে এক যুবককে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ঝুলিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকুরিয়া ইউনিয়নের গনই মমিনাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে নিলু মিয়াকে (২৫) চোর সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিলু মিয়ার মা অভিযোগ করে বলেন, আমার নিরপরাধ ছেলেটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধরে নিয়ে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। এখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যারা আমার ছেলেকে চোর বানিয়ে এভাবে ঝুলিয়ে মারপিট করেছে, তারা নিজেরাই নেশাখোর ও চোর। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিলু মিয়ার ভাই লালচাঁন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাই কোনো চুরি করেনি। মিথ্যা অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়েছে। আমাদের বাড়িতেও হামলা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে থেকে তাকে ধরে নিয়ে নিজামউদ্দিন কলেজের সামনে আবুর খলায় রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়েছে। যারা মারধর করেছে—ওয়ান মিয়া, হাসান, হোসেনসহ আরও কয়েকজন তাদের বিরুদ্ধে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য থানায় এসেছি। আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত বিচার হোক, কিন্তু এভাবে নির্যাতনের বিচার চাই।
এ ঘটনার ভিডিও শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে পাকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. জসিম উদ্দিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া চুরির সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এভাবে একজন মানুষকে পিটানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ঘটনার নিন্দা জানান। কমেন্টে মো. ফোরকান রাজ লেখেন, বিষয়টা খুব খারাপ করেছে। ছেলেটা যদি চুরি করেও থাকে, তবে তাকে আইনের আওতায় দেওয়া যেত। এভাবে ঝুলানো ঠিক হয়নি। সারোয়ার হোসেন লেখেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইমুর রহমান তালুকদার/এসএইচএ