‘আমরা বুঝতেও পারলাম না তারা এভাবে চলে যাবে’

কুষ্টিয়ায় সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- খাজানগর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২), আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই সিএনজি চালক জাকারিয়া সরকার (৪০), খাজানগর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আশরাফুল (২৮) ও আশরাফুলের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২০)।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে কাঁদছিলেন নিহত আমেনা খাতুনের পুত্রবধূ শাহনাজ পারভীন। তিনি বলেন, গত চারদিন আগে জাকারিয়ার বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা থানার চকরাজাপুর এলাকায় বেড়াতে যান সবাই। আজ আশার কথা ছিল। জামাই জাকারিয়া নিজেই তাদের বাড়িতে দিয়ে যাবে। বাড়িতে আসলো ঠিকই তবে লাশ হয়ে। আমরা বুঝতেও পারলাম না তারা এভাবে চলে যাবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাকারিয়ার মরদেহ রাজশাহী জেলার বাঘা থানার চকরাজাপুর এলাকায় নিজ গ্রামে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মৃত সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন ও কমেলা খাতুন এবং আব্দুল মালেকের ছেলে আশরাফুল ও আশরাফুলের স্ত্রী শিরিনা খাতুনকে রাত ১০টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগরের দুই গোরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিটি শহরের ত্রিমোহনী থেকে বাইপাস হয়ে খাজানগরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাসবাহী লরির সাথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরও দুইজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাক ও সিএনজি দুইটাই জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। আমরা আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এসে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। নিহতদের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় জেলা প্রশাসক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরিবারের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহগুলো হস্তান্তর করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের চোখেও পানি দেখা যায়। তিনি নিজে অবস্থান করে মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন।
জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আর বিআরটিএর পক্ষ থেকে যে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয় তার সকল ব্যবস্থা তিনি করে দেবেন।
তিনি বলেন, এই দায় আমাদের সকলের। আমরা সাবধানতার সাথে গাড়ি চালাই না। আমি কুষ্টিয়া থেকে শুদ্ধি অভিযান চালানো শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের গাড়িতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করবো।
রবিউল আলম ইভান/আরএআর