‘আন্দোলনে যারা ছিল, তারাই হাট-ঘাট খাবে’

‘আন্দোলনে যারা ছিল তারাই হাট-ঘাট খাবে। সে যে দলেরই হোক, তার অধিকার আছে সে খাবে, আপনি খাবেন না? কারণ আপনি কোনো জায়গা যাননি। আর যদি যান, তাদের প্রতিহত করে অধিকার আদায় করে নিবে। কেউ যদি টাকার গরমে বাজার ডেকেও আনে, ওই বাজারে ও ঢুকলে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হবে। এইটার অধিকার তোমাদের খাওয়ার আছে, তোমরা খাবা। আমি তোমাদের সাথে আছি।’
এমন বক্তব্য দিয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন হোসেন। ঘটনাটি গতকাল সোমবারের (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে এক বক্তব্যে ছাত্র ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন রিপন। সেসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
ইতোমধ্যে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে আরও বলতে শোনা যায়, যখন আপনি ১০ টাকার জিনিস ৩০ টাকা দিয়ে কিনবেন, সেই সামর্থ এদের নেই (ছাত্র)। এরা খেতেও পারবে না। কিন্তু এই অধিকার আপনাদের কে দিছে? আপনারা যদি দেশের জন্য কাজ করতেন, আন্দোলন সংগ্রাম করতেন, রাজপথে যেতেন; বুঝতাম আপনাদের অধিকার আছে। যারা গিয়েছেন আপনারা পাবেন। আপনাদের বাদ দিয়ে এ সকল ছেলেরা খেতে চাইনি। আপনাদের সাথে করে রেখে খুব অল্প ইজারা দিয়ে এরা আপাতত জীবনটা বাঁচাবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যে সকল ছাত্র নির্যাতিত, যে সকল আন্দোলোনকারী ভাত পাচ্ছে না, আপনারা এ সকল দলপ্রেমী মানুষ তাদের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।
ওই নেতা বলেন, এই বাজার খেকো যেসব দালালেরা আছেন, আপনারা খুব সহজেই এই ছেলেদের অধিকারের জাইগা দখল করবেন না। এই ক্ষুধার্ত ছেলেরা যদি বাজার ঘাট না খেতে পারে, সরকার লিজ দিবে এ সকল ছাত্ররা বাপের কাছ থেকে ভিক্ষা করে নিয়ে এসে হলেও বাজার লিজ নেবে।
কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ জাকারিয়া উৎপল বলেন, বিএনপি একটি গণতন্ত্রবাদী দল। কেউ যদি টেন্ডারে হাট ঘাটের ইজারা পায়, তারাই এটা ভোগ করবে। সে যে দলেরই হোক। এটা তার গণতান্ত্রিক অধিকার।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি এমন কোন বক্তব্য দেয়, এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত। এর দায় কখনও দল নেবে না। আমরা সভাপতি সেক্রেটারি মিলে বিষয়টি দেখছি। যদি অন্যায় করে থাকে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি ভিডিওটি অল্প দেখেছি। উনি দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের কোন বক্তব্য দিতে পারেন না। তার দায় কখনও দল নেবে না। আমরা সব সময় দখলদারিত্বের বিরোধী। আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনা আমরা সবসময় অনুসরণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি। তিনি আসলে কি জন্য এই ধরনের কথা বলেছেন, এটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
রবিউল আলম ইভান/এসএইচএ