জমজ দুই ভাইয়ের একসঙ্গে বৃত্তি লাভ

সিরাজগঞ্জে জমজ দুই ভাই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় একইসঙ্গে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পেয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
বৃত্তিপ্রাপ্ত দুই ভাই হলো—মো. মওদুদ আহমেদ ছায়েম ও মো. মাহিদুল আহমেদ নাঈম। তারা কামারখন্দ উপজেলার বড়কুড়া গ্রামের মৃত সেনাসদস্য মো. আব্দুল মজিদ খানের জমজ ছেলে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় একইসঙ্গে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে।
২০১০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ৩০ মিনিটের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া দুই ভাইয়ের বেড়ে ওঠাও একসঙ্গেই। তাদের বাবা ২০১৫ সালে লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মা মোছা. নাজমা আক্তার রুনার সংসারে জমজ দুই ছেলে ছাড়াও রয়েছে আরও তিন কন্যা সন্তান। বাবা হারালেও পাঁচ ভাই-বোনের সংসারে অভাব নেই কোনো। বাসা ভাড়া থেকে পাওয়া খরচেই তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছে।
শিক্ষাজীবনের শুরু সিরাজগঞ্জের লেকচারার কিন্ডার গার্টেন থেকে। সেখানে প্লে ও নার্সারি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে তারা ভর্তি হয় জেলার বেগম রোকেয়া প্রি ক্যাডেট স্কুলে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করার পর জামতৈল ধোপাকান্দি সরকারি বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকেই এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই ভাই একসঙ্গে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি অর্জন করে।
পথচলা একসঙ্গে হলেও দুই ভাইয়ের স্বপ্ন আলাদা। মো. মওদুদ আহমেদ ছায়েম ঢাকা পোস্টকে বলে, আমার স্বপ্ন দক্ষ পাইলট হওয়ার। নির্দিষ্ট সময় মেনে লেখাপড়া করি না। যখন ইচ্ছে হয়, তখনই লেখাপড়া করি।
মো. মাহিদুল আহমেদ নাঈম ঢাকা পোস্টকে বলে, আমি বড় হয়ে একজন প্রথম সারির সরকারি কর্মকর্তা হতে চাই।
তাদের বড় বোন মোছা. ফারজানা খাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার জমজ দুইভাই একই রকম বুদ্ধিমান। দুজনেই লেখাপড়ায় ভালো। একইসঙ্গে জুনিয়ন বৃত্তি পরিক্ষায় সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাওয়ায় আমরা সবাই খুশি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে দুই ক্যাটাগারিতে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে মেধা বৃত্তি পেয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে পেয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী।
মো. নাজমুল হাসান/এএমকে