আখ সংকটে ১৩ দিন আগেই বন্ধ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল

আখের সংকট এবং চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ১৩ দিন আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মাড়াই কার্যক্রম। চলতি মৌসুমে আখের জোগান কম থাকায় চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে মিল কর্তৃপক্ষ।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মিল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুম শুরু হয়েছিল গত ১০ নভেম্বর। চলতি মৌসুমে মিল জোনের ১৮ হাজার একর জমি থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন আখ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মৌসুম শেষে দেখা গেছে, ১০৮ কর্মদিবসে মিলটি মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করতে সক্ষম হয়েছে। এতে চিনি উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। ২৩ ফেব্রুয়ারি আখ সংকটের কারণে মিলের মাড়াই কর্যক্রম বন্ধ করে মিল কর্তৃপক্ষ।
চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৮ হাজার মেট্রিক টন আখ কম মাড়াই হয়েছে এবং চিনি উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। শুধু আখের সংকটই নয়, চিনি আহরণের হারেও (রিকভারি রেট) বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে চিনি আহরণের হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে।
মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে জানান, কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। চলতি মৌসুমে আখের মূল্য মণপ্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের মাঝে ১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার চাষির আখের বিল দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আখের আবাদ ও সরবরাহ পাওয়া যায়নি। আখের অভাবেই মূলত নির্ধারিত সময়ের আগেই আমাদের মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।
আশিকুর রহমান/আরএআর