চাকরি নয়, গোলাপেই ভাগ্য বদল রাকিবের, মাসে আয় লাখ টাকা

বিলজুড়ে লাল, হলুদ আর গোলাপি রঙের সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন রঙের কার্পেট বিছানো। কাছে গেলেই ভেসে আসে গোলাপের মনোমুগ্ধকর সুবাস। এটি কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি তরুণ উদ্যোক্তা এস এম রাকিবের স্বপ্নের বাগান।
গোসাইরহাট উপজেলার এই তরুণ বাণিজ্যিকভাবে গোলাপ চাষ করে জেলার প্রথম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার ৮৪ শতাংশ জমির বাগানে এখন পাঁচ হাজারের বেশি গোলাপ গাছ। প্রতিদিন এখান থেকে ৭০০–৮০০টি ফুল সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকার পাইকারি বাজারে।
২০১৮ সালে গোলাপ চাষ শুরু করেন রাকিব। দুই দফায় প্রায় ২৪ হাজার চারা রোপণ করেন। কিন্তু শুরুতেই পোকামাকড়ের আক্রমণ আর মৌসুমি ঝড়ে কয়েক হাজার গাছ নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই তখন তাকে থামতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি থামেননি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে নতুনভাবে পরিচর্যা শুরু করেন। ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় তার বাগান।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে জুমেলিয়া, ছোলোরিয়া, টপ সিক্রেটসহ পাঁচটি বিশেষ জাতের গোলাপ। ফুলের পাশাপাশি চারাও বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটি ফুল পাইকারি বাজারে ৫ থেকে ১৫ টাকায় এবং চারা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। সব মিলিয়ে মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করছেন। কখনও তা লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

প্রতিদিন ভোরে বাগান থেকে সংগ্রহ করা গোলাপ সরাসরি চলে যাচ্ছে ঢাকার আগারগাঁও বাজারে। পাইকাররা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন রাকিবের সঙ্গে।
বাগানে এখন পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। ফলে তার উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এলাকায় তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
শুধু ব্যবসা নয়, বাগানটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ধরনের বিনোদনকেন্দ্র। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গোলাপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বাগান দেখতে আসা ইয়ামিন হোসেন বলেন, আমাদের জেলায় এত সুন্দর গোলাপ বাগান আছে, আগে জানতাম না। এখানে এসে মনটা ভরে গেছে। ভাবছি, আমিও এমন বাগান করব।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, কঠোর পরিশ্রম করলে সফল হওয়া যায়, রাকিব তার উদাহরণ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পের আওতায় তাকে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এতে গোলাপের আকার ও গুণগত মান উন্নত হয়েছে, বাজারেও মিলছে ভালো দাম।
গ্রামবাংলার তরুণদের কাছে রাকিব এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। প্রমাণ করে দিয়েছেন, সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় আর প্রযুক্তিগত সহায়তা থাকলে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ব্যবসা।
নয়ন দাস/এসএইচএ