সাতক্ষীরায় ভূমিকম্প, আতঙ্কে ঘর ও মসজিদ ছেড়ে রাস্তায় মানুষ

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সাতক্ষীরা। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে সাতক্ষীরা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি।
আকস্মিক এ ভূমিকম্পে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। জুমার নামাজ চলাকালে বিভিন্ন মসজিদ থেকেও মুসল্লিরা বাইরে বেরিয়ে খোলা স্থানে অবস্থান নেন।
সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক ১টা ৫৩ মিনিটে কম্পনে মাটি কেঁপে ওঠে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এ কম্পনে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন। কেউ কেউ ঘরের ভেতর থেকে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষকে খোলা স্থানে জড়ো হতে দেখা যায়।
সাতক্ষীরা শহরের রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ থেকে নামাজ পরে বের হচ্ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, নামাজ শেষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তা কেঁপে উঠল। নিজেকে সামলাতে না পেরে এক পাশে বসে পড়ি। পরে দেখি আশপাশের কয়েকটি বাড়ি থেকে মহিলা ও শিশুরা দ্রুত রাস্তায় নেমে এসেছে।
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা আশিকুর রহমান জানান, বুধহাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সাধারণত ১টা ৩০ মিনিটে নামাজ শুরু হয়। তবে আজ কিছুটা দেরি হওয়ায় ১টা ৫১ মিনিটে ইকামত শেষ করি। হাত বাঁধার সময়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অনেক মুসল্লি নামাজ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। পরে ইমাম সাহেব দ্রুত নামাজ শেষ করে দোয়া করেন।
একই এলাকার ওমর আলী বলেন, আমি নিচতলায় ছিলাম। ইমাম সাহেব নামাজ শুরু করবেন। ঠিক তখনই মাটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। এমন জোরে কম্পন আগে কখনও অনুভব করিনি। মানুষ আতঙ্কে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়।
আশাশুনি সদরের মঞ্জু আরা বেগম বলেন, উঠানে বসে মাছ কাটছিলাম। হঠাৎ গা ও মাটি কেঁপে উঠল। দৌড়ে রাস্তায় উঠলাম। পরে দেখি আরও অনেকে রাস্তায় এসেছে। এরপর জানতে পারি ভূমিকম্প হয়েছে। আমাদের এলাকায় এর আগে এমন কম্পন হয়নি।
ভূমিকম্পের পর কিছু সময় আতঙ্ক বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ইব্রাহিম খলিল/এসএইচএ