ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজেন জব্বর

ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজেন মো. জব্বর। ১৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্র জব্বরের এমন কায়দায় বিক্রি বেড়েছে পেঁয়াজুর। কয়েক ধরনের ডাল, পেঁয়াজ, গাজর এবং বেসন দিয়ে জব্বরের হাতের তৈরি এমন সুস্বাদু পেঁয়াজু ভাজা দেখতে এসে কেনে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। ফলে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতার সমাগমে মুখোর থাকে জব্বরের পেঁয়াজুর দোকান।
রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার আমোদপুর মোড়ে জব্বরের পেঁয়াজুর দোকান। এই দোকানটি ছিল জব্বরের বাবা বাবুল ইসলামের। বয়স হওয়ার কারণে তিনি এখন আর পেঁয়াজু ভাজেন না। তাই সেই দোকানের ভার পড়েছে জব্বরের ওপরে। জব্বরের বাবার হাতের পেঁয়াজু নিয়ে বেশ সুনাম রয়েছে এলাকাজুড়ে। তবে সেই সুনামে মাত্রা যোগ করেছে জব্বরের ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে ভাজা পেঁয়াজু।
জব্বর বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কেজি পেঁয়াজু বিক্রি হয়। সব থেকে বেশি কেনাবেচা হয় শীত এবং রোজার সময়ে। এখানে ১০০ গ্রাম ওজনের পেয়াজুর দাম ৩০ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি কেজির দাম ৩০০ টাকা। রমজানের কারণে দুপুর থেকেই কার্যক্রম শুরু করতে হয়। অনেকে সন্ধ্যার পরে এবং তারাবির পরে এসে পেঁয়াজু খান।

গরম তেলে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজার বিষয়ে তিনি বলেন, আগে অল্প অল্প হাত দিতাম। এভাবে ভাজতে ভাজতে অভ্যাস হয়ে গেছে। কখনো হাত পুড়ে যাওয়া বা হাতের কোনো ক্ষতি হয়নি। এভাবে পেঁয়াজু ভাজার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসেন দেখতে। এখানে বসে খাবার পরে অনেকে আবার পরিবারের জন্য পেঁয়াজু নিয়ে যান।
ক্রেতা রাব্বানী বলেন, জব্বরের হাতে জাদু আছে। তার ভুল আকর্ষণ হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজা। এটা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। ভাজা দেখতে এসে অনেকে তার পেঁয়াজ খান। জব্বরের বাবা ভালো পেঁয়াজু তৈরি করতেন। এখন তার ছেলে তৈরি করেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে আসে পেঁয়াজু খেতে। অনেকের দোকানে বসে খান এবং বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যান।
ক্রেতা সোহেল বলেন, তার বাবারও পেঁয়াজু বিক্রিতে বেশ সুনাম রয়েছে। কয়েক ধরনের মসলা দিয়ে বিভিন্ন সুন্দর করে পেয়াজু বানায়। স্বাদ ভালো হওয়ায় অনেক ক্রেতা হয় তার দোকানে। তেল থেকে পেঁয়াজু তুলতে না তুলতে শেষ হয়ে যায়। গরম গরম পেঁয়াজু অনেক স্বাদ লাগে খেতে।
জানা গেছে, বাঘা উপজেলার আমোদপুরে ইসলামী একাডেমিতে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন জব্বর। সকালে স্কুল ও পড়াশোনার পড়ে বিকেলে শুরু হয় ছোলা ও পেঁয়াজু বিক্রি। তার দোকানে এই দুই পদের মুখরোচক খাবার বিক্রি হয়। তবে ছোলার তুলনায় বেশি ক্রেতা ভাজা পেঁয়াজুর। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচা।
জব্বরের এলাকার বাসিন্দা হোসেন আলী বলেন, আমরা অনেকদিন থেকে এভাবে তাকে তেলের মধ্যে হাত দিয়ে পেঁয়াজু ভাজতে দেখি। কখনো হাত পুড়ে যাওয়া বা কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা শুনিনি। তার ভাজা পেঁয়াজের ভালোই স্বাদ। তাই এমনভাবে পেঁয়াজু ভাজা দেখতে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে।

জব্বরের বাবা বাবুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে তিনি এই ব্যবসা করেন। তবে বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে আর তিনি আগুনের চুলার কাছে বসতে পারেন না। তাই তার ছেলে পেঁয়াজু ভাজেন। তিনি শুধু দোকানের ক্যাশ বাক্সে বসেন। টাকা-পয়সা লেনদেন করেন। এভাবে পেঁয়াজু ভাজা ছেলের অভ্যাস হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার আফরোজা নাজনীন বলেন, কেউ যদি কয়েকটা টাকা ইনকাম করার জন্য এগুলা করে এগুলো সারাজীবনের জন্য ভুক্তভোগী হওয়া ছাড়া আর কিছুই না। একবার দুইবার হয়তোবা বেঁচে যেতে পারে, তবে যখন হাতে ক্ষত হবে তখন কিন্তু তার অনেক বড় ক্ষতি হবে।
শাহিনুল আশিক/আরএআর