প্রখ্যাত ফুটবলার শামসুজ্জোহা মারা গেছেন

গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, একসময়ের মাঠ কাঁপানো তুখোড় ফুটবলার শামসুজ্জোহা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল সোয়া ৮টার দিকে গাইবান্ধা শহরের ডেভিডকোং পাড়ায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাদ আছর স্টেশন জামে মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পৌর গোরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
ষাট ও সত্তরের দশকে গাইবান্ধার ফুটবল অঙ্গনে শামসুজ্জোহা ছিলেন এক অনিবার্য নাম। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য—দৃঢ়তা, কৌশল আর নেতৃত্বগুণে তিনি দলকে এনে দিতেন স্থিতি ও আত্মবিশ্বাস। মাঠে তার উপস্থিতি মানেই ছিল প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ওয়াজিউর রহমান রাফেল স্মৃতিচারণ করে বলেন, শামসুজ্জোহা শুধু একজন প্রখ্যাত ফুটবলারই ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ অমায়িক। তিনি ইউএনও ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও খেলোয়াড় ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি গাইবান্ধা মহকুমা দল ও রংপুর জেলা দলের হয়ে খেলেছেন। প্রাক্তন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গাইবান্ধা ক্রীড়া সংস্থা তাকে সংবর্ধনা প্রদান করে।
শামসুজ্জোহার মৃত্যুতে গাইবান্ধার ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড়ের শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। মাঠের সেই দৃঢ় প্রহরী আজ না থাকলেও, তার অবদান আর স্মৃতি গাইবান্ধার ক্রীড়া ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
এএমকে