আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের সড়কে গর্ত, উঠে গেছে পিচ

খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত এ কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বহু পর্যটক ভিড় করেন। তবে অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
পর্যটনকেন্দ্রের ভেতরের দুইপাশে সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচঢালাই উঠে গেছে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে আসা পর্যটকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম অংশ দৃষ্টিনন্দন কাঠের ব্রিজটির অবস্থাও নাজুক। ব্রিজের কাঠের পাটাতনের বেশিরভাগ অংশ পচে গেছে। কোথাও কোথাও পা রাখলেই পচা কাঠ ভেঙে নিচে দেবে যাচ্ছে। এতে শিশু ও বয়স্ক পর্যটকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত এসব পচা কাঠ অপসারণ করে নতুন কাঠ বসানোর দাবি জানিয়েছেন অনেক পর্যটক।
এ ছাড়া, পর্যটনকেন্দ্রের দোলনাসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনার রং উঠে গিয়ে সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় রং ও মেরামতের অভাবে কেন্দ্রটির নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সামান্য সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে এ স্থানটি আবারও আগের সৌন্দর্যে ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন পর্যটকরা।

রাঙ্গামাটি থেকে ঘুরতে এসেছেন মো. মনির হোসেন। তিনি আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তিনি বলেন, পার্কের ভেতরের সড়ক সংস্কার করে দিলে এবং কিছু রং করে দিলে সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেতো।
ভোলা থেকে আসা জুবায়ের নামে এক পর্যটক বলেন, পার্কটিতে মনে হচ্ছে সবকিছু পুরোনো হয়ে গেছে। দ্রত কিছু সংস্কার প্রয়োজন।
হাসনাইম নামে আরেকজন পর্যটক বলেন, ব্রিজের কিছু কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। ছবি তুলতে গিয়ে কাঠে পা পড়তেই ভয় পেয়ে গেছি। পঁচা কাঠগুলো দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকেট কাউন্টারের দ্বায়িত্বরত কোকনাথ ত্রিপুরা বলেন, পার্কের সড়কগুলো অনেক আগের করা। ইতোমধ্যে অনেক অংশে ভেঙে গেছে। এগুলো সংস্কার অথবা পুনঃস্থাপন করা দরকার।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ইতোমধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটির উন্নয়ন বৃদ্ধি করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যদি প্রকল্পটি মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয় দ্রুত কাজ করা হবে। এ ছাড়া, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটনকেন্দ্রের যে সংস্কার কাজ করা প্রয়োজন তা করা হবে।
এ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ পর্যটনকেন্দ্রটি দ্রুত সময়ে সংস্কার করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হোক, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
মোহাম্মদ শাহজাহান/এএমকে